লাহোরের শাইখ জায়েদ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবনতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি বড় সংকটের মুখে পড়েছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাবের এই ফেডারেল সরকারের অন্যতম বড় শিক্ষণ হাসপাতাল একসময় কিডনি ও লিভার চিকিৎসার জন্য দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রোগী ভর্তি কমে যাওয়া, ওষুধ সংকট, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং আস্থার ঘাটতিতে হাসপাতালের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অর্ধেক বিভাগে নেই কোনো রোগী ভর্তি
হাসপাতালের ৩৬টি বিভাগের মধ্যে ১৮টি বিভাগে ২০২৬ সালের জুন মাসে একজন রোগীও ভর্তি হয়নি। এর মধ্যে শিশু সার্জারি, চক্ষু বিভাগ, প্লাস্টিক সার্জারি, চর্মরোগ, ইউরোলজি, নবজাতক বিভাগ, হৃদরোগ, স্নায়ুরোগ, লিভার ও প্রতিস্থাপন বিভাগসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট রয়েছে।
হাসপাতালের মোট ১ হাজার ৩২টি শয্যার মধ্যে অনেক বিভাগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শয্যা খালি পড়ে আছে। এতে হাসপাতালের সক্ষমতা ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
জরুরি বিভাগেও কমেছে রোগীর চাপ
হাসপাতালের দুর্ঘটনা ও জরুরি বিভাগ, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি, সেখানেও রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে। জুন মাসে মাত্র ৪৫ জন রোগী জরুরি বিভাগে এসেছেন এবং তাদের কাউকেই ভর্তি করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইসিইউতেও ওই সময়ে কোনো রোগী ভর্তি হয়নি।

ব্যবস্থাপনা সংকট ও আস্থার ঘাটতি
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা সারাক্ষণ রিপোর্টকে জানান, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের একটি অংশ নিয়মিত নিজ নিজ বিভাগে উপস্থিত না থাকায় সেবার মান কমে গেছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, নিয়মিত পরীক্ষার সুবিধা না থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত করছে। অনেক রোগীকেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
আর্থিক চাপ বাড়ছে
স্বাস্থ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের আয় কমেছে। প্রায় দেড় হাজার চিকিৎসা সহায়তা সংক্রান্ত বিল পরিশোধের অপেক্ষায় থাকায় আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
সরবরাহকারীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধে দেরি হওয়ায় ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
সংস্কারের উদ্যোগ শুরু
হাসপাতালের বর্তমান চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. আয়েশা হুমায়ুন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উন্নত করতে ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান একদিনে সম্ভব নয়। তবে কিছু উদ্যোগের ফলে হাসপাতালের শয্যা ব্যবহারের হার আগের তুলনায় বেড়েছে এবং বন্ধ থাকা কিছু সেবাও পুনরায় চালু করা হয়েছে।
একাধিকবার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের কারণেও হাসপাতালের কার্যক্রমে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসাসেবার মান পুনরুদ্ধার করা।
শাইখ জায়েদ হাসপাতালের সংকট, চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শাইখ জায়েদ হাসপাতাল সংকটে, ১৮ বিভাগে নেই রোগী ভর্তি। চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার অবনতিতে বন্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















