সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মিয়ানমারের অনেক রাঁধুনি এখন নিজেদের খাবারের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে দেশের সংস্কৃতি ও পরিচয় তুলে ধরছেন। বিভিন্ন দেশে আয়োজন করা খাবারের অনুষ্ঠানে তারা পরিচিত করাচ্ছেন মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী রান্না।
খাবারের মাধ্যমে দেশের গল্প বলছেন রাঁধুনিরা
মিয়ানমারের জনপ্রিয় খাবার লাপেতসহ নানা পদ এখন এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নতুন করে পরিচিতি পাচ্ছে। নির্বাসনে থাকা রাঁধুনিরা মনে করছেন, খাবার শুধু স্বাদের বিষয় নয়, এটি একটি দেশের ইতিহাস ও মানুষের জীবনের গল্পও বহন করে।
ফিউ সিন নামের এক রাঁধুনি নিজেকে ভবঘুরে রাঁধুনি হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি যেখানেই যান, সঙ্গে রাখেন লাপেত, যা মিয়ানমারের বিশেষ চা পাতার তৈরি খাবার। তিনি বিভিন্ন দেশে আয়োজন করা খাবারের অনুষ্ঠানে নিজের দেশের রান্না তুলে ধরছেন।
বার্লিনের একটি রেস্তোরাঁয় তিনি লাপেত দিয়ে তৈরি খাবার ও তিলের তেল এবং মাছের সস দিয়ে তৈরি বেগুনের পদ পরিবেশন করেন। অতিথিরা প্রথমবার মিয়ানমারের খাবার খেয়ে এর ভিন্ন স্বাদ ও ভারসাম্যপূর্ণ মসলার প্রশংসা করেন।
নির্বাসনের মধ্যেও সংস্কৃতি ধরে রাখার চেষ্টা
২০২১ সালের সামরিক ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমার থেকে লাখো মানুষ দেশ ছেড়েছেন। তাদেরই একজন ফিউ সিন, যিনি আগে জনসংযোগ পেশায় কাজ করতেন। এখন তিনি বিভিন্ন দেশে ঘুরে খাবারের আয়োজন করে মিয়ানমারের রান্নাকে পরিচিত করে তুলছেন।
নিউইয়র্কে অং মিও হেত নামের আরেক রাঁধুনি পরিবেশন করছেন মোহিঙ্গা, যা মাছের ঝোল ও নুডলসের সমন্বয়ে তৈরি একটি জনপ্রিয় খাবার। তার কাছে এই খাবার শুধু ব্যবসা নয়, নিজের দেশের স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়।
অনেক মিয়ানমারের মানুষের কাছে তার রান্না বাড়ির স্বাদের মতো অনুভূতি তৈরি করে। আবার নতুন অতিথিদের কাছে এটি সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে পরিচিতি
মিয়ানমারের খাবার পরিচিত করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বড় ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন ভিডিও ও অনলাইন প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষ দেশটির রান্না সম্পর্কে জানতে পারছেন।
অস্ট্রেলিয়ার একটি রেস্তোরাঁর মালিক অং কিয়াও কিয়াও জানান, শুরুতে তার ব্যবসা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবারের প্রচার ছড়িয়ে পড়লে মানুষের আগ্রহ বাড়ে।
তিনি মনে করেন, অনেক মানুষের কাছে মিয়ানমার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। নিজের রান্নার মাধ্যমে তিনি সেই ধারণা বদলাতে চান।

খাবার হয়ে উঠেছে অস্তিত্বের বার্তা
মিয়ানমারের রাঁধুনিদের জন্য খাবার এখন শুধু ঐতিহ্য নয়, নিজেদের অস্তিত্ব জানানোর একটি মাধ্যম। ফিউ সিন বলেন, খাবারের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে জানাতে চান যে মিয়ানমারের মানুষ ও সংস্কৃতি এখনো টিকে আছে।
দেশের সংঘাতের কারণে অনেক কৃষক ও খাদ্য সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও তারা আশা করছেন, একদিন আবার শান্তি ফিরবে এবং মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী খাবার আরও বিস্তৃতভাবে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
মিয়ানমারের নির্বাসিত রাঁধুনিরা খাবারের মাধ্যমে বিশ্বে তুলে ধরছেন নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের গল্প।
নির্বাসিত মিয়ানমারের রাঁধুনিরা খাবারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গল্প।
নির্বাসিত মিয়ানমারের রাঁধুনি, মিয়ানমারের খাবারের বিশ্ব পরিচিতি
মিয়ানমারের খাবার কীভাবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাচ্ছে, জানুন নির্বাসিত রাঁধুনিদের সংগ্রাম ও সংস্কৃতি তুলে ধরার গল্প।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















