শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যে আইনের আওতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি হত্যার বিচার হয়েছিল, সেই আইনেই তার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। বিষয়টি বর্তমানে সেনাবাহিনী পর্যালোচনা করছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়ার লক্ষ্যারচর শিকলঘাটায় বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সেনা হেফাজতে মোজাফফর
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোজাফফরকে ইতোমধ্যে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার বিচার যে আইনি কাঠামোর অধীনে সম্পন্ন হয়েছিল, সেই একই আইনি ব্যবস্থার আওতায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনা করছে।
সরকারের জলবায়ু ও কৃষি উদ্যোগ
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত কমাতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা: পটভূমি
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতও সেই রায় বহাল রাখেন।
রায়ের পর কয়েকজন দণ্ডপ্রাপ্তের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও কয়েকজন দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক ছিলেন। তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেন অন্যতম।
দীর্ঘ আত্মগোপনের পর আটক
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা হলেও তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যান। সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফরকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেনাবাহিনী তার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















