রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নে এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে হত্যার পর তার রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের মরদেহ শুক্রবার দুপুরে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত ব্যক্তি জাহিদ বিশ্বাস (৩৫)। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জোয়ানি পাড়া গ্রামের জামাল বিশ্বাসের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জীবিকার তাগিদে তিনি রাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন।
নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রিকশার ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জাহিদ চার থেকে পাঁচ দিন কাজ করতে পারেননি। পরে ধার করে নতুন ব্যাটারি কিনে বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু রাতে আর ফিরে আসেননি।
পরিবার রাতভর তার খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পায়নি। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত যোগাযোগ না হওয়ায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
এদিকে শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে চামেলী পার্ক এলাকার সড়কের ঢালে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। একই সঙ্গে মরদেহের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জাহিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।
পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ
খবর পেয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শহিদুল ইসলাম এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত রিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই জাহিদকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শোকের ছায়া পরিবারে
জাহিদ বিশ্বাসের মৃত্যুতে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
রাজবাড়ীতে রিকশাচালক হত্যা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে হত্যার পর রিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার সন্দেহে তদন্ত চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















