জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ৩৪ রানের জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টাইগাররা। ফলে রোববারের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিই নির্ধারণ করবে সিরিজের চূড়ান্ত ফল।
দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে মাত্র ১০ বলে চারটি ছক্কা ও একটি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৩১ রান করেন তিনি। পরে বল হাতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রাখেন কার্যকর অবদান।
শুরুর ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার
শুক্রবার বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। দুই ওপেনারের ১২০ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপ হিসেবে স্থান করে নেয়।
দুজনই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যান। তবে সেই জুটি ভাঙার পর হঠাৎই ছন্দ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। মাত্র ২১ রানের ব্যবধানে ফিরে যান সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন ও নুরুল হাসান সোহান। এতে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা কিছুটা হুমকির মুখে পড়ে।

সাইফউদ্দিন-ইয়াসিরের ঝড়ে বড় সংগ্রহ
১৬.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪১ রান থেকে ইনিংসের শেষ ভাগে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও ইয়াসির আলি মাত্র ১৯ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে বাংলাদেশের সংগ্রহকে নিয়ে যান ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৬ রানে।
সাইফউদ্দিন ১০ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন, যেখানে ছিল চারটি ছক্কা। অন্যদিকে ইয়াসির আলি ১২ বলে দুই চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ২২ রান যোগ করেন। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শেষ দিকে বাংলাদেশের ইনিংসে বাড়তি গতি এনে দেয়।
রিশাদের ঘূর্ণিতে থেমে গেল জিম্বাবুয়ে
১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২১ রানেই হারায় তিনটি উইকেট। এরপর অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ও মিল্টন ৪৪ রানের একটি জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় স্বাগতিকরা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
বাংলাদেশের হয়ে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। তিনি ৩.৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে চারটি উইকেট শিকার করেন। সাইফউদ্দিনও একটি উইকেট নিয়ে নিজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সকে পূর্ণতা দেন।
শেষ পর্যন্ত ১৯.৪ ওভারে ১৫২ রানে অলআউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ফলে ৩৪ রানের জয় নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ।
শেষ ম্যাচেই সিরিজের নিষ্পত্তি
সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ১৩৮ রানে গুটিয়ে ৩২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সমতা ফিরিয়ে এখন সিরিজ জয়ের সুযোগ তৈরি করেছে টাইগাররা। রোববারের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচেই নির্ধারিত হবে সিরিজের চ্যাম্পিয়ন।
জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ। সাইফউদ্দিন, রিশাদ ও দুই ওপেনারের দারুণ পারফরম্যান্সে শেষ ম্যাচের আগে জমে উঠেছে সিরিজ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















