০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালের আবহাওয়া বিপর্যয়: ‘স্বাভাবিক’ বৃষ্টির হিসাব কেন ভয়ংকর বিভ্রান্তি তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা, এআই সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা—আলোচনায় সাত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুরোনো দিনের রেশ মুছে আবারও ফ্যাশনের কেন্দ্রে রেশমি স্কার্ফ গ্রীষ্মজুড়ে নজর কেড়েছে রঙিন গ্রাফিক টি-শার্ট, বদলে গেছে ফ্যাশনের ধারা টোকিওর বসন্ত ২০২৭: ইয়োশিওকুবোর পোশাকে নতুন জাপানি নান্দনিকতার ছোঁয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর নিয়ে কী ঘটেছিল, প্রকাশ করলে অবাক হবেন: তামিম আওয়ামী লীগকে সংসদ নির্বাচন থেকে ‘মাইনাস’ করার অভিযোগ আইপিইউতে ‘স্বাস্থ্যকর’ ভাবা জাইলিটলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি? গবেষণায় মিলল উদ্বেগজনক তথ্য ভোটেকোশি আকস্মিক বন্যায় মৃত ৯০৩, নিখোঁজ ৪,২৪৭; উদ্ধার ১০,৫৪১ অসুস্থ হওয়ার সামর্থ্যও নেই: চিকিৎসার খরচে আফগান পরিবারের নিঃস্ব হওয়ার গল্প

মার্কোসের চার বছরে ঋণ ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো, চার দশকের রেকর্ড

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র তার চার বছরের শাসনামলে ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো ঋণ নিয়েছেন, যা গত চার দশকের সাতটি প্রশাসনের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে একটি স্বাধীন অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা।

এই ঋণের পরিমাণ এর আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় রদ্রিগো দুতের্তে প্রশাসনের ছয় বছরে নেওয়া ৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন পেসো ঋণের চেয়েও মার্কোস প্রশাসনের ঋণ এখন বেশি।

ঋণ বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনে এর সুফল কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ঋণ নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ

সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, স্বাধীন অর্থনৈতিক সংগঠন আইবন ফাউন্ডেশন বলেছে, দেশের বর্তমান নীতি ও কর ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সরকার পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারছে না। এর ফলে উন্নয়ন ও ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে দেশকে বাড়তি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সনি আফ্রিকা মনে করেন, বড় প্রতিষ্ঠান ও ধনী গোষ্ঠীর জন্য কর সুবিধা দেওয়ার কারণে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তার মতে, প্রতিবছর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন পেসো সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

দুর্নীতিতে বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি

ফিলিপাইনের সরকারি সংস্থাগুলোতে দুর্নীতি, পণ্যের মূল্য কম দেখানো এবং চোরাচালানের কারণে প্রতিবছর বিপুল অর্থ হারাচ্ছে দেশটি। শুল্ক দপ্তরে এসব কারণে প্রায় ২০০ বিলিয়ন পেসো পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তরেও কর ফাঁকি ও অনিয়মের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫০০ বিলিয়ন পেসো ক্ষতি হচ্ছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। গত বছর এই দপ্তর রেকর্ড পরিমাণ ৩ দশমিক ১০৫ ট্রিলিয়ন পেসো রাজস্ব সংগ্রহ করলেও নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন পেসো অর্থ ক্ষয় হচ্ছে।

ঋণ কি একমাত্র সমাধান

বিশ্লেষকদের মতে, কম রাজস্ব আয় ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামলাতে সরকার সহজ পথ হিসেবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঋণের দিকে ঝুঁকছে। তবে নেওয়া ঋণের অর্থ সব সময় সাধারণ মানুষের উন্নয়নে ব্যবহার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সনি আফ্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী, ধার করা অর্থের বড় অংশ ঋণ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে, যা দেশের উৎপাদনশীল খাত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে না।

তিনি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন চিন্তাভাবনা, বড় প্রতিষ্ঠান ও ধনী পরিবারের ওপর ন্যায্য কর আরোপ এবং অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।

অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

আইবন ফাউন্ডেশনের মতে, শুধু ঋণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব বাড়ানো, দুর্নীতি কমানো এবং জনগণের স্বার্থে অর্থ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ফিলিপাইনের ক্রমবর্ধমান ঋণ এখন দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

মার্কোস প্রশাসনের চার বছরে ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো ঋণ ফিলিপাইনের অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দুর্নীতি, রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণ নির্ভরতা নিয়ে বাড়ছে আলোচনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালের আবহাওয়া বিপর্যয়: ‘স্বাভাবিক’ বৃষ্টির হিসাব কেন ভয়ংকর বিভ্রান্তি তৈরি করছে

মার্কোসের চার বছরে ঋণ ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো, চার দশকের রেকর্ড

০৭:৪৪:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র তার চার বছরের শাসনামলে ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো ঋণ নিয়েছেন, যা গত চার দশকের সাতটি প্রশাসনের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে একটি স্বাধীন অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা।

এই ঋণের পরিমাণ এর আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় রদ্রিগো দুতের্তে প্রশাসনের ছয় বছরে নেওয়া ৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন পেসো ঋণের চেয়েও মার্কোস প্রশাসনের ঋণ এখন বেশি।

ঋণ বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনে এর সুফল কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ঋণ নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ

সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, স্বাধীন অর্থনৈতিক সংগঠন আইবন ফাউন্ডেশন বলেছে, দেশের বর্তমান নীতি ও কর ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সরকার পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারছে না। এর ফলে উন্নয়ন ও ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে দেশকে বাড়তি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সনি আফ্রিকা মনে করেন, বড় প্রতিষ্ঠান ও ধনী গোষ্ঠীর জন্য কর সুবিধা দেওয়ার কারণে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তার মতে, প্রতিবছর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন পেসো সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

দুর্নীতিতে বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি

ফিলিপাইনের সরকারি সংস্থাগুলোতে দুর্নীতি, পণ্যের মূল্য কম দেখানো এবং চোরাচালানের কারণে প্রতিবছর বিপুল অর্থ হারাচ্ছে দেশটি। শুল্ক দপ্তরে এসব কারণে প্রায় ২০০ বিলিয়ন পেসো পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দপ্তরেও কর ফাঁকি ও অনিয়মের কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫০০ বিলিয়ন পেসো ক্ষতি হচ্ছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। গত বছর এই দপ্তর রেকর্ড পরিমাণ ৩ দশমিক ১০৫ ট্রিলিয়ন পেসো রাজস্ব সংগ্রহ করলেও নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর প্রায় ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন পেসো অর্থ ক্ষয় হচ্ছে।

ঋণ কি একমাত্র সমাধান

বিশ্লেষকদের মতে, কম রাজস্ব আয় ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামলাতে সরকার সহজ পথ হিসেবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ঋণের দিকে ঝুঁকছে। তবে নেওয়া ঋণের অর্থ সব সময় সাধারণ মানুষের উন্নয়নে ব্যবহার হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সনি আফ্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী, ধার করা অর্থের বড় অংশ ঋণ পরিশোধেই চলে যাচ্ছে, যা দেশের উৎপাদনশীল খাত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছে না।

তিনি ঋণ ব্যবস্থাপনায় নতুন চিন্তাভাবনা, বড় প্রতিষ্ঠান ও ধনী পরিবারের ওপর ন্যায্য কর আরোপ এবং অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।

অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

আইবন ফাউন্ডেশনের মতে, শুধু ঋণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব বাড়ানো, দুর্নীতি কমানো এবং জনগণের স্বার্থে অর্থ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ফিলিপাইনের ক্রমবর্ধমান ঋণ এখন দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

মার্কোস প্রশাসনের চার বছরে ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো ঋণ ফিলিপাইনের অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দুর্নীতি, রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণ নির্ভরতা নিয়ে বাড়ছে আলোচনা।