০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘনঘটা-২: বর্ষার ছন্দে জমে উঠল নৃত্য উৎসব রংপুরে শিশুদের সুরক্ষায় সীসা দূষণ বন্ধের দাবিতে তরুণদের জোরালো আহ্বান ইরানের চাবাহার বন্দরে হামলা, ধ্বংস হলো নজরদারি টাওয়ার শাইখ জায়েদ হাসপাতাল বন্ধের মুখে, চিকিৎসাসেবায় বড় সংকট ইসরোর বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ঠেকাতে নতুন নির্দেশ, গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পে সতর্ক ভারত ১৫ বছর পরও হৃদয়ে অমলিন হৃতিক, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দুবারা’র স্মৃতিতে আবেগঘন বার্তা মার্কোসের চার বছরে ঋণ ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো, চার দশকের রেকর্ড বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সন্দেহভাজন রোগী ছাড়াল ১ লাখ ১৬ হাজার যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধের মধ্যেও ঘর ছাড়েননি লেবাননের মানুষ, জমি রক্ষায় অবিচল দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ধস: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরুসহ শীর্ষ নেতারা পড়ে গেলেও প্রাণহানি নেই

যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধের মধ্যেও ঘর ছাড়েননি লেবাননের মানুষ, জমি রক্ষায় অবিচল দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা

দক্ষিণ লেবাননের বহু মানুষ যুদ্ধ, ধ্বংস আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি ছেড়ে যেতে চাননি। প্রতিদিনের জীবন কঠিন হয়ে উঠলেও তারা মনে করছেন, নিজেদের ভূমিতে থাকা মানেই অস্তিত্ব ধরে রাখা।

দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন, আরকুব ও আশপাশের এলাকায় একসময় ছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কৃষিকাজ, ব্যবসা আর পারিবারিক আড্ডায় ব্যস্ত থাকতেন মানুষ। কিন্তু চলমান সংঘাত সেই পরিচিত জীবনকে বদলে দিয়েছে। অনেক দোকান বন্ধ, বাড়ির দরজায় তালা, রাস্তায় নীরবতা। তবুও কিছু মানুষ নিজেদের জায়গা আঁকড়ে থেকে গেছেন।

যুদ্ধের মধ্যেও জমির প্রতি টান

৭৩ বছর বয়সী হিকমত ফারহা বলেন, তারা নিজেদের জমিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এখন তাদের শহর অনেকটা জনশূন্য হয়ে গেছে। তিনি জানান, তারা শান্তি চান, তবে নিজেদের শিকড় ছেড়ে যেতে চান না।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের ভয় শুধু বর্তমান সংঘাত নিয়ে নয়, অতীতের স্মৃতিও তাদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘদিনের দখল, হামলা ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতা আবার ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের আশঙ্কা

বাসিন্দারা বলছেন, সাময়িকভাবে ঘর ছাড়ার ঘটনা যেন স্থায়ী বিচ্ছেদে পরিণত না হয়। অনেক পরিবার মনে করছে, একবার এলাকা ছেড়ে গেলে হয়তো আর নিজেদের বাড়ি ও কৃষিজমিতে ফিরতে পারবে না।

৮০ বছর বয়সী সাঈদ জাহের বলেন, দক্ষিণ লেবাননের মানুষ বহু দশক ধরে যুদ্ধের মূল্য দিয়ে আসছে। তাদের জমি ও জীবন বারবার সংকটের মুখে পড়েছে।

In southern Lebanon, 'the war goes on and residents cannot return home'

ভেঙে পড়ছে স্বাভাবিক জীবন

সংঘাতের কারণে স্কুল বন্ধ হয়েছে, চিকিৎসাসেবা কমেছে এবং জ্বালানি, পানি ও কৃষিপণ্যের সংকট বেড়েছে। কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না, অনেক ফসল সময়মতো সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দক্ষিণ লেবানন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল হলেও হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও চলাচলের সীমাবদ্ধতায় কৃষিকাজ বড় ধাক্কা খেয়েছে। অনেক কৃষক জমি ও গবাদিপশুর দেখাশোনা করতে পারছেন না।

সহায়তা কম, সংকট বেশি

সরকারি সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতা পৌঁছালেও স্থানীয়দের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে নিয়মিত সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

যারা থেকে গেছেন, তারা বলছেন, প্রতিদিনের জীবন এখন ভয় আর অপেক্ষার মধ্যে কাটছে। রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরণের শব্দ, আশপাশের এলাকার ধ্বংস আর অনিশ্চয়তা তাদের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

ঘরে ফেরার অপেক্ষায় বাস্তুচ্যুত মানুষ

যারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের অনেকেই ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। কিন্তু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি, নিরাপত্তার শঙ্কা এবং চলমান উত্তেজনা তাদের ফেরাকে কঠিন করে তুলেছে।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের কাছে নিজেদের জমি শুধু সম্পত্তি নয়, এটি তাদের পরিচয়, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের প্রতীক। তাই যুদ্ধের মাঝেও অনেকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের মাটিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘনঘটা-২: বর্ষার ছন্দে জমে উঠল নৃত্য উৎসব

যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধের মধ্যেও ঘর ছাড়েননি লেবাননের মানুষ, জমি রক্ষায় অবিচল দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা

০৭:৩৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননের বহু মানুষ যুদ্ধ, ধ্বংস আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের ঘরবাড়ি ও জমি ছেড়ে যেতে চাননি। প্রতিদিনের জীবন কঠিন হয়ে উঠলেও তারা মনে করছেন, নিজেদের ভূমিতে থাকা মানেই অস্তিত্ব ধরে রাখা।

দক্ষিণ লেবাননের মারজায়ুন, আরকুব ও আশপাশের এলাকায় একসময় ছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কৃষিকাজ, ব্যবসা আর পারিবারিক আড্ডায় ব্যস্ত থাকতেন মানুষ। কিন্তু চলমান সংঘাত সেই পরিচিত জীবনকে বদলে দিয়েছে। অনেক দোকান বন্ধ, বাড়ির দরজায় তালা, রাস্তায় নীরবতা। তবুও কিছু মানুষ নিজেদের জায়গা আঁকড়ে থেকে গেছেন।

যুদ্ধের মধ্যেও জমির প্রতি টান

৭৩ বছর বয়সী হিকমত ফারহা বলেন, তারা নিজেদের জমিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এখন তাদের শহর অনেকটা জনশূন্য হয়ে গেছে। তিনি জানান, তারা শান্তি চান, তবে নিজেদের শিকড় ছেড়ে যেতে চান না।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের ভয় শুধু বর্তমান সংঘাত নিয়ে নয়, অতীতের স্মৃতিও তাদের ভাবিয়ে তুলছে। দীর্ঘদিনের দখল, হামলা ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতা আবার ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের আশঙ্কা

বাসিন্দারা বলছেন, সাময়িকভাবে ঘর ছাড়ার ঘটনা যেন স্থায়ী বিচ্ছেদে পরিণত না হয়। অনেক পরিবার মনে করছে, একবার এলাকা ছেড়ে গেলে হয়তো আর নিজেদের বাড়ি ও কৃষিজমিতে ফিরতে পারবে না।

৮০ বছর বয়সী সাঈদ জাহের বলেন, দক্ষিণ লেবাননের মানুষ বহু দশক ধরে যুদ্ধের মূল্য দিয়ে আসছে। তাদের জমি ও জীবন বারবার সংকটের মুখে পড়েছে।

In southern Lebanon, 'the war goes on and residents cannot return home'

ভেঙে পড়ছে স্বাভাবিক জীবন

সংঘাতের কারণে স্কুল বন্ধ হয়েছে, চিকিৎসাসেবা কমেছে এবং জ্বালানি, পানি ও কৃষিপণ্যের সংকট বেড়েছে। কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না, অনেক ফসল সময়মতো সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দক্ষিণ লেবানন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল হলেও হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও চলাচলের সীমাবদ্ধতায় কৃষিকাজ বড় ধাক্কা খেয়েছে। অনেক কৃষক জমি ও গবাদিপশুর দেখাশোনা করতে পারছেন না।

সহায়তা কম, সংকট বেশি

সরকারি সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতা পৌঁছালেও স্থানীয়দের দাবি, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে নিয়মিত সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

যারা থেকে গেছেন, তারা বলছেন, প্রতিদিনের জীবন এখন ভয় আর অপেক্ষার মধ্যে কাটছে। রাতের অন্ধকারে বিস্ফোরণের শব্দ, আশপাশের এলাকার ধ্বংস আর অনিশ্চয়তা তাদের বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

ঘরে ফেরার অপেক্ষায় বাস্তুচ্যুত মানুষ

যারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের অনেকেই ফিরে আসার পথ খুঁজছেন। কিন্তু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি, নিরাপত্তার শঙ্কা এবং চলমান উত্তেজনা তাদের ফেরাকে কঠিন করে তুলেছে।

দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের কাছে নিজেদের জমি শুধু সম্পত্তি নয়, এটি তাদের পরিচয়, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের প্রতীক। তাই যুদ্ধের মাঝেও অনেকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের মাটিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।