০৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
ইরানের চাবাহার বন্দরে হামলা, ধ্বংস হলো নজরদারি টাওয়ার শাইখ জায়েদ হাসপাতাল বন্ধের মুখে, চিকিৎসাসেবায় বড় সংকট ইসরোর বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ঠেকাতে নতুন নির্দেশ, গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পে সতর্ক ভারত ১৫ বছর পরও হৃদয়ে অমলিন হৃতিক, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দুবারা’র স্মৃতিতে আবেগঘন বার্তা মার্কোসের চার বছরে ঋণ ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো, চার দশকের রেকর্ড বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সন্দেহভাজন রোগী ছাড়াল ১ লাখ ১৬ হাজার যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধের মধ্যেও ঘর ছাড়েননি লেবাননের মানুষ, জমি রক্ষায় অবিচল দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ধস: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরুসহ শীর্ষ নেতারা পড়ে গেলেও প্রাণহানি নেই ‘প্রতাপ ডুবিল, শৈবালিনী ডুবিল না’—বঙ্কিমচন্দ্রের সেই পঙ্‌ক্তির যেন বাস্তব প্রতিধ্বনি যমুনা সেতুতে মন্ত্রী বদল নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্জাগরণই হওয়া উচিত

ট্রাম্পের চীনবিরোধী অভিযোগে নতুন করে চাপে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আবারও সামনে আনার পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর তৈরি হওয়া বাণিজ্যিক সমঝোতার পরিবেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন মার্কিন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে চীন এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

চীনের পাল্টা জবাব

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনো আগ্রহ বা কার্যক্রম চীনের নেই। দেশটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

চীনা কর্মকর্তারা বলেছেন, বেইজিং বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে আসছে।

বাণিজ্য সমঝোতায় নতুন অনিশ্চয়তা

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে গত বছরের বাণিজ্য উত্তেজনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। চীনের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের পর আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছিল।

ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় ছিল। আগামী দিনে দুই নেতার বৈঠকের সম্ভাবনা থাকলেও নতুন অভিযোগ সেই প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘরোয়া রাজনীতির প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোট ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

চীনের পক্ষ থেকেও ধারণা করা হচ্ছে, এই বক্তব্য সরাসরি দুই দেশের নীতিগত সম্পর্ক পরিবর্তনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।

নির্বাচন নিয়ে পুরোনো অভিযোগ আবার আলোচনায়

ট্রাম্প এর আগেও ২০২০ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তদন্তে ওই নির্বাচনের ফল পরিবর্তনে কোনো বিদেশি শক্তির সফল হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নতুন বক্তব্যে ট্রাম্প নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন পথে

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্ভরশীল। তাই নতুন অভিযোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের চাবাহার বন্দরে হামলা, ধ্বংস হলো নজরদারি টাওয়ার

ট্রাম্পের চীনবিরোধী অভিযোগে নতুন করে চাপে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক

০৭:০০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ আবারও সামনে আনার পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর তৈরি হওয়া বাণিজ্যিক সমঝোতার পরিবেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চীন মার্কিন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে চীন এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

চীনের পাল্টা জবাব

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনো আগ্রহ বা কার্যক্রম চীনের নেই। দেশটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

চীনা কর্মকর্তারা বলেছেন, বেইজিং বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে আসছে।

বাণিজ্য সমঝোতায় নতুন অনিশ্চয়তা

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে গত বছরের বাণিজ্য উত্তেজনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। চীনের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের পর আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছিল।

ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় ছিল। আগামী দিনে দুই নেতার বৈঠকের সম্ভাবনা থাকলেও নতুন অভিযোগ সেই প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘরোয়া রাজনীতির প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোট ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

চীনের পক্ষ থেকেও ধারণা করা হচ্ছে, এই বক্তব্য সরাসরি দুই দেশের নীতিগত সম্পর্ক পরিবর্তনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।

নির্বাচন নিয়ে পুরোনো অভিযোগ আবার আলোচনায়

ট্রাম্প এর আগেও ২০২০ সালের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তদন্তে ওই নির্বাচনের ফল পরিবর্তনে কোনো বিদেশি শক্তির সফল হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নতুন বক্তব্যে ট্রাম্প নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন পথে

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্ভরশীল। তাই নতুন অভিযোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।