০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
ইরানের চাবাহার বন্দরে হামলা, ধ্বংস হলো নজরদারি টাওয়ার শাইখ জায়েদ হাসপাতাল বন্ধের মুখে, চিকিৎসাসেবায় বড় সংকট ইসরোর বিজ্ঞানীদের পদত্যাগ ঠেকাতে নতুন নির্দেশ, গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ প্রকল্পে সতর্ক ভারত ১৫ বছর পরও হৃদয়ে অমলিন হৃতিক, ‘জিন্দেগি না মিলেগি দুবারা’র স্মৃতিতে আবেগঘন বার্তা মার্কোসের চার বছরে ঋণ ৯ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন পেসো, চার দশকের রেকর্ড বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, সন্দেহভাজন রোগী ছাড়াল ১ লাখ ১৬ হাজার যুদ্ধের মধ্যেও যুদ্ধের মধ্যেও ঘর ছাড়েননি লেবাননের মানুষ, জমি রক্ষায় অবিচল দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ধস: অর্থমন্ত্রী আমীর খসরুসহ শীর্ষ নেতারা পড়ে গেলেও প্রাণহানি নেই ‘প্রতাপ ডুবিল, শৈবালিনী ডুবিল না’—বঙ্কিমচন্দ্রের সেই পঙ্‌ক্তির যেন বাস্তব প্রতিধ্বনি যমুনা সেতুতে মন্ত্রী বদল নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্জাগরণই হওয়া উচিত

চাকরির বাজারে টিকে থাকার আসল শক্তি ডিগ্রি নয়, শেখার গভীরতা

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর প্রথম প্রশ্ন থাকে—‘আমি কি চাকরির জন্য প্রস্তুত?’ এই উদ্বেগ নতুন নয়, তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এই প্রশ্নকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেকেই মনে করেন, সঠিক বিষয় নির্বাচনই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি সূক্ষ্ম। কর্মজীবনে সফলতার ভিত্তি কেবল কোন বিষয় পড়া হয়েছে, তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে শেখা হয়েছে এবং সেই শেখা মানুষটিকে কতটা পরিণত করেছে তার ওপর।

প্রতি বছর হাজারো তরুণ-তরুণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এমন এক শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, যেখানে সুযোগ যেমন আছে, তেমনি প্রতিযোগিতাও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ধীরগতির অর্থনীতি, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং নিয়োগদাতাদের নতুন প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের সামনে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তাই এখন শুধু সনদ অর্জন নয়, নিজেকে একজন সক্ষম সমস্যা-সমাধানকারী হিসেবে গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অনেকের ধারণা, মানবিক বা সমাজবিজ্ঞান পড়লে করপোরেট বা উন্নয়ন খাতে ভালো সুযোগ পাওয়া কঠিন। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। কিছু পেশা অবশ্যই নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার দাবি করে। প্রকৌশল, চিকিৎসা কিংবা বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র তার উদাহরণ। কিন্তু কর্মসংস্থানের বিশাল অংশ এমন, যেখানে নির্দিষ্ট বিষয়ের চেয়ে ব্যক্তির সক্ষমতা, বিচারবোধ এবং শেখার ক্ষমতাই বেশি মূল্য পায়।

নিয়োগদাতারা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান খোঁজেন না। তারা এমন মানুষ চান, যিনি দ্রুত নতুন পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, দলে কাজ করতে পারবেন এবং নিজের চিন্তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারবেন। এই দক্ষতাগুলো কোনো একটি বিভাগের একচেটিয়া সম্পদ নয়; বরং যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করেও এগুলো অর্জন করা সম্ভব, যদি শেখার পরিবেশ সেই সুযোগ দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান বিচার করতে হলে প্রশ্ন করতে হবে—শিক্ষার্থী কী শিখেছে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, সে কীভাবে শিখেছে? মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো ফল করা আর বিশ্লেষণ করে নতুন ধারণা তৈরি করা এক বিষয় নয়। কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিন এমন পরিস্থিতি আসে, যার উত্তর বইয়ের কোনো পাতায় লেখা থাকে না। সেখানে কাজে লাগে সমালোচনামূলক চিন্তা, তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা এবং যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা।

এই কারণেই ভাষা ও যোগাযোগের গুরুত্ব কখনো কমে না। যে ব্যক্তি স্পষ্টভাবে লিখতে পারে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে পারে এবং জটিল ধারণাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে, সে প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাড়তি সুবিধা পায়। একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকলে সেই সক্ষমতা আরও বিস্তৃত হয়। সাক্ষাৎকার, প্রতিবেদন, উপস্থাপনা কিংবা দৈনন্দিন পেশাগত যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই ভাষা একটি মৌলিক শক্তি।

চাকরির বাজারে অকেজো যে ১২ ডিগ্রি, বিকল্প উপায় কী

একইভাবে বিশ্লেষণী ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকল্প নেই। নতুন সমস্যার মুখোমুখি হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা, বিভিন্ন বিকল্পের তুলনা করা এবং যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো—এসব দক্ষতা এমন কিছু নয়, যা কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণে তৈরি হয়। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও মুখস্থবিদ্যা ও পুনরাবৃত্তিনির্ভর শিক্ষার বাইরে যেতে পারেনি। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সনদ পেলেও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। যেসব কাজ নিয়মমাফিক এবং পুনরাবৃত্তিমূলক, সেগুলোর বড় অংশ এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু মানুষের বিচক্ষণতা, নৈতিক বিচার, সৃজনশীলতা এবং নতুন পরিস্থিতিতে অভিযোজনের ক্ষমতা এখনও প্রযুক্তির বিকল্প খুঁজে পায়নি। ফলে ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এগুলোই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।

আজকের কর্মক্ষেত্রে তথ্য ও সংখ্যার সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাও ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠছে। সবাইকে গণিতবিদ বা পরিসংখ্যানবিদ হতে হবে না, কিন্তু তথ্য বুঝতে, বিশ্লেষণ করতে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারার মতো মৌলিক দক্ষতা থাকা দরকার। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য, নতুন সফটওয়্যার শেখার মানসিকতা এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ক্ষমতা এখন প্রায় সব পেশারই অংশ হয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে তাই কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি এমন একটি সময়, যখন একজন মানুষ নিজের চিন্তার কাঠামো নির্মাণ করে, শেখে কীভাবে নতুন জ্ঞান অর্জন করতে হয় এবং কীভাবে অচেনা সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। এই আত্মশিক্ষার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে পেশাগত সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।

তাই স্নাতক পর্যায়ে কোন বিষয় বেছে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেটিই সব নয়। একজন শিক্ষার্থী ভাষায় দক্ষ কি না, বিশ্লেষণ করতে পারে কি না, তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে কি না, প্রযুক্তি শেখার আগ্রহ রাখে কি না এবং সবচেয়ে বড় কথা, নিজেকে নিয়মিত নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে কি না—এসব প্রশ্নই ভবিষ্যতে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।

চাকরির বাজার দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে তারাই, যারা কেবল একটি ডিগ্রি নিয়ে নয়, শেখার গভীরতা, স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতা এবং সারাজীবন শেখার মানসিকতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। এগুলোই ভবিষ্যতের সবচেয়ে টেকসই পেশাগত যোগ্যতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের চাবাহার বন্দরে হামলা, ধ্বংস হলো নজরদারি টাওয়ার

চাকরির বাজারে টিকে থাকার আসল শক্তি ডিগ্রি নয়, শেখার গভীরতা

০৭:১৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর প্রথম প্রশ্ন থাকে—‘আমি কি চাকরির জন্য প্রস্তুত?’ এই উদ্বেগ নতুন নয়, তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এই প্রশ্নকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেকেই মনে করেন, সঠিক বিষয় নির্বাচনই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি সূক্ষ্ম। কর্মজীবনে সফলতার ভিত্তি কেবল কোন বিষয় পড়া হয়েছে, তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে শেখা হয়েছে এবং সেই শেখা মানুষটিকে কতটা পরিণত করেছে তার ওপর।

প্রতি বছর হাজারো তরুণ-তরুণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে এমন এক শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, যেখানে সুযোগ যেমন আছে, তেমনি প্রতিযোগিতাও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ধীরগতির অর্থনীতি, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং নিয়োগদাতাদের নতুন প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের সামনে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। তাই এখন শুধু সনদ অর্জন নয়, নিজেকে একজন সক্ষম সমস্যা-সমাধানকারী হিসেবে গড়ে তোলাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অনেকের ধারণা, মানবিক বা সমাজবিজ্ঞান পড়লে করপোরেট বা উন্নয়ন খাতে ভালো সুযোগ পাওয়া কঠিন। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। কিছু পেশা অবশ্যই নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার দাবি করে। প্রকৌশল, চিকিৎসা কিংবা বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র তার উদাহরণ। কিন্তু কর্মসংস্থানের বিশাল অংশ এমন, যেখানে নির্দিষ্ট বিষয়ের চেয়ে ব্যক্তির সক্ষমতা, বিচারবোধ এবং শেখার ক্ষমতাই বেশি মূল্য পায়।

নিয়োগদাতারা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান খোঁজেন না। তারা এমন মানুষ চান, যিনি দ্রুত নতুন পরিস্থিতি বুঝতে পারবেন, যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, দলে কাজ করতে পারবেন এবং নিজের চিন্তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারবেন। এই দক্ষতাগুলো কোনো একটি বিভাগের একচেটিয়া সম্পদ নয়; বরং যেকোনো বিষয়ে পড়াশোনা করেও এগুলো অর্জন করা সম্ভব, যদি শেখার পরিবেশ সেই সুযোগ দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান বিচার করতে হলে প্রশ্ন করতে হবে—শিক্ষার্থী কী শিখেছে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, সে কীভাবে শিখেছে? মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো ফল করা আর বিশ্লেষণ করে নতুন ধারণা তৈরি করা এক বিষয় নয়। কর্মক্ষেত্রে প্রতিদিন এমন পরিস্থিতি আসে, যার উত্তর বইয়ের কোনো পাতায় লেখা থাকে না। সেখানে কাজে লাগে সমালোচনামূলক চিন্তা, তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষমতা এবং যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা।

এই কারণেই ভাষা ও যোগাযোগের গুরুত্ব কখনো কমে না। যে ব্যক্তি স্পষ্টভাবে লিখতে পারে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে পারে এবং জটিল ধারণাকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে, সে প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাড়তি সুবিধা পায়। একাধিক ভাষায় দক্ষতা থাকলে সেই সক্ষমতা আরও বিস্তৃত হয়। সাক্ষাৎকার, প্রতিবেদন, উপস্থাপনা কিংবা দৈনন্দিন পেশাগত যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই ভাষা একটি মৌলিক শক্তি।

চাকরির বাজারে অকেজো যে ১২ ডিগ্রি, বিকল্প উপায় কী

একইভাবে বিশ্লেষণী ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকল্প নেই। নতুন সমস্যার মুখোমুখি হয়ে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা, বিভিন্ন বিকল্পের তুলনা করা এবং যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো—এসব দক্ষতা এমন কিছু নয়, যা কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণে তৈরি হয়। এগুলো দীর্ঘ সময় ধরে অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও মুখস্থবিদ্যা ও পুনরাবৃত্তিনির্ভর শিক্ষার বাইরে যেতে পারেনি। ফলে অনেক শিক্ষার্থী সনদ পেলেও স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে না।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। যেসব কাজ নিয়মমাফিক এবং পুনরাবৃত্তিমূলক, সেগুলোর বড় অংশ এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব। কিন্তু মানুষের বিচক্ষণতা, নৈতিক বিচার, সৃজনশীলতা এবং নতুন পরিস্থিতিতে অভিযোজনের ক্ষমতা এখনও প্রযুক্তির বিকল্প খুঁজে পায়নি। ফলে ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এগুলোই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।

আজকের কর্মক্ষেত্রে তথ্য ও সংখ্যার সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাও ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠছে। সবাইকে গণিতবিদ বা পরিসংখ্যানবিদ হতে হবে না, কিন্তু তথ্য বুঝতে, বিশ্লেষণ করতে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারার মতো মৌলিক দক্ষতা থাকা দরকার। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য, নতুন সফটওয়্যার শেখার মানসিকতা এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ক্ষমতা এখন প্রায় সব পেশারই অংশ হয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে তাই কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি এমন একটি সময়, যখন একজন মানুষ নিজের চিন্তার কাঠামো নির্মাণ করে, শেখে কীভাবে নতুন জ্ঞান অর্জন করতে হয় এবং কীভাবে অচেনা সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। এই আত্মশিক্ষার অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে পেশাগত সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।

তাই স্নাতক পর্যায়ে কোন বিষয় বেছে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেটিই সব নয়। একজন শিক্ষার্থী ভাষায় দক্ষ কি না, বিশ্লেষণ করতে পারে কি না, তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে কি না, প্রযুক্তি শেখার আগ্রহ রাখে কি না এবং সবচেয়ে বড় কথা, নিজেকে নিয়মিত নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে কি না—এসব প্রশ্নই ভবিষ্যতে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।

চাকরির বাজার দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে তারাই, যারা কেবল একটি ডিগ্রি নিয়ে নয়, শেখার গভীরতা, স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতা এবং সারাজীবন শেখার মানসিকতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। এগুলোই ভবিষ্যতের সবচেয়ে টেকসই পেশাগত যোগ্যতা।