০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে মালভিনাস বিতর্ক: ফুটবল কি সত্যিই রাজনীতি থেকে আলাদা থাকতে পারে? যুদ্ধের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে ফার্নবরো বিমান প্রদর্শনীর চিত্র, অস্ত্র প্রযুক্তিতে বাড়ছে নজর পেঁয়াজ-টমেটোর দাম আকাশছোঁয়া, সরবরাহ সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে ভোগান্তি স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণ স্থগিত, ইলন মাস্ক জানালেন আগামী সপ্তাহে নতুন চেষ্টা ইরানে মার্কিন হামলায় সেতু ধ্বংস, পুরো অঞ্চলে বড় সংঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের নতুন টি-৯০এমএস ট্যাংক: ভারতকে যৌথ উৎপাদনের প্রস্তাব দিল রাশিয়া বিশ্ব পাসপোর্ট সূচকে ভারতের অবস্থান ৮০তম, ৫৬ দেশে সহজ ভ্রমণের সুযোগ ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেসি-ইয়ামালের ঐতিহাসিক মুখোমুখি, ১৮ বছর পর বদলে গেল ছবির গল্প। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন শক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ব্যর্থ: সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিক পাঠানো বন্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকিতে নতুন সতর্কতা

মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি? এবিবির প্রস্তাবে বাড়ছে জনঅসন্তোষ

ব্যাংকের কাউন্টার থেকে মাসে তিনবারের বেশি নগদ টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। ব্যাংকিং সেবার বিভিন্ন খাতে নতুন চার্জ চালু এবং বিদ্যমান কিছু ফি বাড়ানোর সুপারিশও আলোচনায় এসেছে। তবে এখনই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা যাবে না।

কী রয়েছে প্রস্তাবে
ব্যাংকগুলোর নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি প্রস্তাব করেছে, কোনো গ্রাহক মাসে তিনবারের বেশি ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নগদ টাকা তুললে পরবর্তী প্রতিটি লেনদেনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া দীর্ঘদিন অচল থাকা ব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করতে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ, ঋণ প্রক্রিয়াকরণসহ আরও বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবায় নতুন চার্জ চালু এবং বিদ্যমান ফি বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

কেন এমন প্রস্তাব
ব্যাংকগুলোর যুক্তি, পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেবা ফি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাউন্টারভিত্তিক লেনদেন কমিয়ে এটিএম, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

গ্রাহকদের উদ্বেগ বাড়ছে
প্রস্তাবটি সামনে আসার পর অনেক গ্রাহক মনে করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নতুন করে ব্যাংকিং খরচ বাড়লে মধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের মানুষ, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন। বিশেষ করে অনেক বয়স্ক গ্রাহক এখনও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না এবং কাউন্টার সেবার ওপরই নির্ভরশীল।

একই সঙ্গে দেশের সব এলাকায় পর্যাপ্ত এটিএম সুবিধা না থাকা, অনেক সময় বুথে টাকা না পাওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং গ্রামীণ অঞ্চলে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সীমিত ব্যবহারও গ্রাহকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ABB proposes charges after 3 counter withdrawals in a month

সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন
অনেক গ্রাহকের প্রশ্ন, দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, সার্ভার জটিলতা ও সেবা বিলম্বের মতো সমস্যার সমাধান না করেই কেন নতুন চার্জ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হলে অনেকেই ব্যাংকে টাকা রাখার পরিবর্তে নগদ অর্থ নিজের কাছেই রাখতে আগ্রহী হতে পারেন, যা আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত সহজে অনুমোদন দেওয়া হবে না। গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এছাড়া ব্যাংকগুলোকে সেবা ফি বাড়ানোর পরিবর্তে ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ এবং নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এবিবির প্রস্তাবটি শুধুই একটি সুপারিশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পর জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা ব্যাংকিং সেবার ব্যয় নিয়ে মানুষের সংবেদনশীল অবস্থাকেই স্পষ্ট করেছে।

মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের মঞ্চে মালভিনাস বিতর্ক: ফুটবল কি সত্যিই রাজনীতি থেকে আলাদা থাকতে পারে?

মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি? এবিবির প্রস্তাবে বাড়ছে জনঅসন্তোষ

০৫:২৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ব্যাংকের কাউন্টার থেকে মাসে তিনবারের বেশি নগদ টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। ব্যাংকিং সেবার বিভিন্ন খাতে নতুন চার্জ চালু এবং বিদ্যমান কিছু ফি বাড়ানোর সুপারিশও আলোচনায় এসেছে। তবে এখনই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা যাবে না।

কী রয়েছে প্রস্তাবে
ব্যাংকগুলোর নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি প্রস্তাব করেছে, কোনো গ্রাহক মাসে তিনবারের বেশি ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নগদ টাকা তুললে পরবর্তী প্রতিটি লেনদেনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া দীর্ঘদিন অচল থাকা ব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করতে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ, ঋণ প্রক্রিয়াকরণসহ আরও বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবায় নতুন চার্জ চালু এবং বিদ্যমান ফি বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

কেন এমন প্রস্তাব
ব্যাংকগুলোর যুক্তি, পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেবা ফি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাউন্টারভিত্তিক লেনদেন কমিয়ে এটিএম, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

গ্রাহকদের উদ্বেগ বাড়ছে
প্রস্তাবটি সামনে আসার পর অনেক গ্রাহক মনে করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নতুন করে ব্যাংকিং খরচ বাড়লে মধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের মানুষ, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন। বিশেষ করে অনেক বয়স্ক গ্রাহক এখনও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না এবং কাউন্টার সেবার ওপরই নির্ভরশীল।

একই সঙ্গে দেশের সব এলাকায় পর্যাপ্ত এটিএম সুবিধা না থাকা, অনেক সময় বুথে টাকা না পাওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং গ্রামীণ অঞ্চলে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সীমিত ব্যবহারও গ্রাহকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ABB proposes charges after 3 counter withdrawals in a month

সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন
অনেক গ্রাহকের প্রশ্ন, দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, সার্ভার জটিলতা ও সেবা বিলম্বের মতো সমস্যার সমাধান না করেই কেন নতুন চার্জ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হলে অনেকেই ব্যাংকে টাকা রাখার পরিবর্তে নগদ অর্থ নিজের কাছেই রাখতে আগ্রহী হতে পারেন, যা আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত সহজে অনুমোদন দেওয়া হবে না। গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এছাড়া ব্যাংকগুলোকে সেবা ফি বাড়ানোর পরিবর্তে ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ এবং নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এবিবির প্রস্তাবটি শুধুই একটি সুপারিশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পর জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা ব্যাংকিং সেবার ব্যয় নিয়ে মানুষের সংবেদনশীল অবস্থাকেই স্পষ্ট করেছে।

মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।