০৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা গ্যান্ডারবাল কেন্দ্রীয় কাশ্মীরে সন্ত্রাসী নিহত, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতিকে UAPA-তে মামলা “ভোটাধিকার চিরস্থায়ীভাবে বিলোপ করা যায় না” পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদপ্রাপ্তদের প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যুদ্ধের প্রভাবে এলপিজি ও বিমান ভ্রমণের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শেনানডোহ তেলের ক্ষেত্রের জন্য বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানিগুলোর দৌড়, মার্কিন উপসাগরীয় প্রযুক্তিগত তেলে বিপুল আগ্রহ তেলের দাম আকাশছোঁয়া, মার্কিন–ইরান সংঘাতের তীব্র প্রভাব বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ল, শেয়ারবাজারে অস্থিরতার ছায়া নেমেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে: আসিফ মাহমুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী-ছাত্রদের হেলমেট পরিধান, ছাদ ভেঙে পড়ার আতঙ্ক লক্ষ্মীপুরে স্কুলের ছাদ ধসে তিন শিক্ষার্থী আহত

নারীরা যারা হার মানেন না: প্রচেষ্টাকে সাফল্যে রূপ দেওয়ার গল্প

গুয়াতেমালার কেতসালতেনাঙ্গো বিভাগের এল পালমার পৌরসভার লোমা লিন্ডা গ্রামে তিন দশকেরও বেশি আগে একদল গ্রামীণ ও আদিবাসী নারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তাদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে, সন্তানদের সহায়তা করতে এবং প্রমাণ করতে হবে যে নারীরা কেবল ঘরের কাজের জন্যই নির্ধারিত নয়—তাদের কিছু করতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই গড়ে ওঠে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব রুরাল উইমেন ফার্মার্স মুন্ডো ভার্দে’ (এএমইউভি)।

শুরুর পথচলা
এএমইউভির সভাপতি মারিয়া এলেনা গনসালেস শুরুটা স্মরণ করে বলেন, তারা এমন কিছু খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা তাদের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারে। তখন তাদের কাছে কোনো যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছিল না। তবুও তারা অস্থায়ী আগুনে কফির প্রথম দানা ভেজে দেখেন, আশা করেছিলেন হয়তো এগুলো বিক্রি করা সম্ভব হবে।

২০০৩ সালে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এএমইউভির সদস্য সংখ্যা দশজন, যাদের মধ্যে নয়জন এই সংগঠনের মাধ্যমে আয় করেন। তারা উচ্চমানের জৈব কফি উৎপাদন করেন, যার মানের স্কোর ৮১.৫ থেকে ৮২.৫ পয়েন্টের মধ্যে। একসময় তারা কফি রপ্তানিও করতেন। কিন্তু কফি গাছে ‘কফি রাস্ট’ রোগ মারাত্মকভাবে আঘাত হানায় তাদের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নতুন করে শুরু করতে হয়।

বর্তমানে তারা বছরে প্রায় ৩৫ কুইন্টাল কফি উৎপাদন করেন এবং আবারও রপ্তানি শুরু করার চেষ্টা করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো এএমইউভিকে এমন একটি টেকসই কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত করা, যা পুরো সম্প্রদায়ের জন্য জীবিকার উৎস হয়ে উঠবে।

পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি
এই নারীদের উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। জৈব সার ব্যবহার থেকে শুরু করে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত সব কিছুই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে করা হয়। তাদের কাছে বন ও পানির উৎস রক্ষা করা জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মারিয়া এলেনার মেয়ে এবং এএমইউভির সদস্য ইমেলদা রামিরেস বলেন, “আমরা যদি প্রকৃতির যত্ন নিই, প্রকৃতিও আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু দেয়।”

সহায়তা ও প্রযুক্তির প্রভাব
বিশ্বব্যাংক এবং সোটজিলের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সংগঠনটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। এই সহায়তার মাধ্যমে তারা একটি আধুনিক কফি খোসা ছাড়ানোর যন্ত্র পায়, যার ফলে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টার কঠোর শ্রম কমে যায় এবং কফির দানা আলাদা করা ও মান উন্নত করা সহজ হয়।

এছাড়াও তারা একটি কম্পিউটার, ডিজিটাল দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা পেয়েছে, যা তাদের বিপণনের সুযোগ বাড়িয়েছে এবং অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব জোরদার করেছে।

মুন্ডো ভার্দের ভবিষ্যৎ
ইমেলদা ছোটবেলা থেকেই মায়ের কফি ভাজার কাজ দেখেছেন। এখন তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তার স্বপ্ন, মুন্ডো ভার্দে যেন অনেক জায়গায় পরিচিত হয়ে ওঠে এবং এটি যেন পুরো সম্প্রদায়ের জীবিকার উৎসে পরিণত হয়, যাতে তরুণীরা স্থানীয় পর্যায়েই কাজের সুযোগ পায় এবং অন্যত্র যেতে বাধ্য না হয়।

দক্ষিণ উপকূলে আরেক নারীগোষ্ঠীর উদ্যোগ
দেশটির দক্ষিণ উপকূলের দিকে গেলে লোমা লিন্ডার মেঘবনের সম্পূর্ণ বিপরীত এক শুষ্ক ভূদৃশ্য দেখা যায়। সেখানে রেতালহুলেউ বিভাগের চাম্পেরিকো পৌরসভার লা বেন্দিসিয়ন এলাকায় অবস্থিত ‘সান সেবাস্তিয়ান কৃষি নারী উন্নয়ন সমিতি’ বা এগ্রিডেসেম।

এই সংগঠনের সভাপতি ইউরি পেরেজ এসকোবেদো এবং সহসভাপতি মারিয়া ফেলিসিয়ানা ভেলাসকেস জানান, বিশ্বব্যাংক এবং সোটজিলের সহায়তা তাদের প্ল্যানটেইন বা রান্নার কলা উৎপাদনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সেচব্যবস্থা ও উৎপাদন বৃদ্ধি
এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সেচব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে, যা শুষ্ক করিডোর অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তাদের সংগ্রহকেন্দ্র সংস্কারের কাজও এগিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে পণ্য আরও ভালো অবস্থায় সংরক্ষণ করে বিক্রি করা যায়।

সেচব্যবস্থার প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। তাদের মতে, ক্ষেত এখন অনেক বেশি সবুজ এবং গাছের কাণ্ড ও পাতাও অনেক শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে তারা এক হেক্টর জমিতে প্রায় ২,৫০০টি গাছ চাষ করছেন।

নিজস্ব ব্র্যান্ডের সূচনা
এই সহায়তার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘দোনা প্লাতানিতা’ তৈরি ও নিবন্ধন করা হয়েছে। এটি তাদের উৎপাদনে মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

মারিয়া ফেলিসিয়ানা ভেলাসকেস বলেন, “আমরা শুধু কলা রোপণ করছি না; আমরা ক্ষমতায়ন, স্থিতিশীলতা এবং আশার বীজও রোপণ করছি।”

প্রকৃতি সংরক্ষণ ও জীবিকা
ইউরি এবং মারিয়া মনে করেন, তাদের কৃষিকাজ টেকসই রাখতে হলে ম্যাংগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা জরুরি। তাই তারা প্রতি বছর ম্যাংগ্রোভ পুনরুদ্ধারের কাজ করেন, যাতে পানি, মৎস্যসম্পদ এবং মাটির ভারসাম্য বজায় থাকে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠনটি ২০ হেক্টর ম্যাংগ্রোভ বন, ১০ হেক্টর প্রাকৃতিক বন এবং ১৩.৫ হেক্টর জ্বালানি বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ করছে। এতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

ম্যাংগ্রোভের রক্ষক
স্থানীয় নেতা ও ম্যাংগ্রোভ সংরক্ষণকর্মী ভিলমা ভাসকেস জানান, অতীতে ম্যাংগ্রোভ বন অবহেলিত ছিল এবং নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাটা হতো। তিনি বলেন, ম্যাংগ্রোভ বনে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতি ডিম পাড়ে এবং বেড়ে ওঠে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি এগ্রিডেসেমের সঙ্গে মিলেই ম্যাংগ্রোভ পুনরুদ্ধারের কাজে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

সহায়তার বিস্তৃত প্রভাব
এএমইউভি এবং এগ্রিডেসেম—উভয় সংগঠনই আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ অনুদান কর্মসূচি থেকে সহায়তা পেয়েছে। এই কর্মসূচি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং সোটজিল সংগঠনের মাধ্যমে গুয়াতেমালার ১৮টি বিভাগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য টেকসই বন ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে প্রায় ২,৫০০ গুয়াতেমালার নারী ও পুরুষ উপকৃত হচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

নারীরা যারা হার মানেন না: প্রচেষ্টাকে সাফল্যে রূপ দেওয়ার গল্প

০৫:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

গুয়াতেমালার কেতসালতেনাঙ্গো বিভাগের এল পালমার পৌরসভার লোমা লিন্ডা গ্রামে তিন দশকেরও বেশি আগে একদল গ্রামীণ ও আদিবাসী নারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তাদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে, সন্তানদের সহায়তা করতে এবং প্রমাণ করতে হবে যে নারীরা কেবল ঘরের কাজের জন্যই নির্ধারিত নয়—তাদের কিছু করতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই গড়ে ওঠে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব রুরাল উইমেন ফার্মার্স মুন্ডো ভার্দে’ (এএমইউভি)।

শুরুর পথচলা
এএমইউভির সভাপতি মারিয়া এলেনা গনসালেস শুরুটা স্মরণ করে বলেন, তারা এমন কিছু খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা তাদের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারে। তখন তাদের কাছে কোনো যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছিল না। তবুও তারা অস্থায়ী আগুনে কফির প্রথম দানা ভেজে দেখেন, আশা করেছিলেন হয়তো এগুলো বিক্রি করা সম্ভব হবে।

২০০৩ সালে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এএমইউভির সদস্য সংখ্যা দশজন, যাদের মধ্যে নয়জন এই সংগঠনের মাধ্যমে আয় করেন। তারা উচ্চমানের জৈব কফি উৎপাদন করেন, যার মানের স্কোর ৮১.৫ থেকে ৮২.৫ পয়েন্টের মধ্যে। একসময় তারা কফি রপ্তানিও করতেন। কিন্তু কফি গাছে ‘কফি রাস্ট’ রোগ মারাত্মকভাবে আঘাত হানায় তাদের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নতুন করে শুরু করতে হয়।

বর্তমানে তারা বছরে প্রায় ৩৫ কুইন্টাল কফি উৎপাদন করেন এবং আবারও রপ্তানি শুরু করার চেষ্টা করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো এএমইউভিকে এমন একটি টেকসই কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় পরিণত করা, যা পুরো সম্প্রদায়ের জন্য জীবিকার উৎস হয়ে উঠবে।

পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি
এই নারীদের উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। জৈব সার ব্যবহার থেকে শুরু করে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত সব কিছুই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে করা হয়। তাদের কাছে বন ও পানির উৎস রক্ষা করা জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মারিয়া এলেনার মেয়ে এবং এএমইউভির সদস্য ইমেলদা রামিরেস বলেন, “আমরা যদি প্রকৃতির যত্ন নিই, প্রকৃতিও আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু দেয়।”

সহায়তা ও প্রযুক্তির প্রভাব
বিশ্বব্যাংক এবং সোটজিলের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সংগঠনটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। এই সহায়তার মাধ্যমে তারা একটি আধুনিক কফি খোসা ছাড়ানোর যন্ত্র পায়, যার ফলে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টার কঠোর শ্রম কমে যায় এবং কফির দানা আলাদা করা ও মান উন্নত করা সহজ হয়।

এছাড়াও তারা একটি কম্পিউটার, ডিজিটাল দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা পেয়েছে, যা তাদের বিপণনের সুযোগ বাড়িয়েছে এবং অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব জোরদার করেছে।

মুন্ডো ভার্দের ভবিষ্যৎ
ইমেলদা ছোটবেলা থেকেই মায়ের কফি ভাজার কাজ দেখেছেন। এখন তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তার স্বপ্ন, মুন্ডো ভার্দে যেন অনেক জায়গায় পরিচিত হয়ে ওঠে এবং এটি যেন পুরো সম্প্রদায়ের জীবিকার উৎসে পরিণত হয়, যাতে তরুণীরা স্থানীয় পর্যায়েই কাজের সুযোগ পায় এবং অন্যত্র যেতে বাধ্য না হয়।

দক্ষিণ উপকূলে আরেক নারীগোষ্ঠীর উদ্যোগ
দেশটির দক্ষিণ উপকূলের দিকে গেলে লোমা লিন্ডার মেঘবনের সম্পূর্ণ বিপরীত এক শুষ্ক ভূদৃশ্য দেখা যায়। সেখানে রেতালহুলেউ বিভাগের চাম্পেরিকো পৌরসভার লা বেন্দিসিয়ন এলাকায় অবস্থিত ‘সান সেবাস্তিয়ান কৃষি নারী উন্নয়ন সমিতি’ বা এগ্রিডেসেম।

এই সংগঠনের সভাপতি ইউরি পেরেজ এসকোবেদো এবং সহসভাপতি মারিয়া ফেলিসিয়ানা ভেলাসকেস জানান, বিশ্বব্যাংক এবং সোটজিলের সহায়তা তাদের প্ল্যানটেইন বা রান্নার কলা উৎপাদনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সেচব্যবস্থা ও উৎপাদন বৃদ্ধি
এই প্রকল্পের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সেচব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে, যা শুষ্ক করিডোর অঞ্চলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তাদের সংগ্রহকেন্দ্র সংস্কারের কাজও এগিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে পণ্য আরও ভালো অবস্থায় সংরক্ষণ করে বিক্রি করা যায়।

সেচব্যবস্থার প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। তাদের মতে, ক্ষেত এখন অনেক বেশি সবুজ এবং গাছের কাণ্ড ও পাতাও অনেক শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে তারা এক হেক্টর জমিতে প্রায় ২,৫০০টি গাছ চাষ করছেন।

নিজস্ব ব্র্যান্ডের সূচনা
এই সহায়তার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘দোনা প্লাতানিতা’ তৈরি ও নিবন্ধন করা হয়েছে। এটি তাদের উৎপাদনে মূল্য সংযোজনের পাশাপাশি আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

মারিয়া ফেলিসিয়ানা ভেলাসকেস বলেন, “আমরা শুধু কলা রোপণ করছি না; আমরা ক্ষমতায়ন, স্থিতিশীলতা এবং আশার বীজও রোপণ করছি।”

প্রকৃতি সংরক্ষণ ও জীবিকা
ইউরি এবং মারিয়া মনে করেন, তাদের কৃষিকাজ টেকসই রাখতে হলে ম্যাংগ্রোভ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা জরুরি। তাই তারা প্রতি বছর ম্যাংগ্রোভ পুনরুদ্ধারের কাজ করেন, যাতে পানি, মৎস্যসম্পদ এবং মাটির ভারসাম্য বজায় থাকে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠনটি ২০ হেক্টর ম্যাংগ্রোভ বন, ১০ হেক্টর প্রাকৃতিক বন এবং ১৩.৫ হেক্টর জ্বালানি বন সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ করছে। এতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্য রয়েছে।

ম্যাংগ্রোভের রক্ষক
স্থানীয় নেতা ও ম্যাংগ্রোভ সংরক্ষণকর্মী ভিলমা ভাসকেস জানান, অতীতে ম্যাংগ্রোভ বন অবহেলিত ছিল এবং নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাটা হতো। তিনি বলেন, ম্যাংগ্রোভ বনে মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতি ডিম পাড়ে এবং বেড়ে ওঠে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি এগ্রিডেসেমের সঙ্গে মিলেই ম্যাংগ্রোভ পুনরুদ্ধারের কাজে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

সহায়তার বিস্তৃত প্রভাব
এএমইউভি এবং এগ্রিডেসেম—উভয় সংগঠনই আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ অনুদান কর্মসূচি থেকে সহায়তা পেয়েছে। এই কর্মসূচি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং সোটজিল সংগঠনের মাধ্যমে গুয়াতেমালার ১৮টি বিভাগে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য টেকসই বন ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে প্রায় ২,৫০০ গুয়াতেমালার নারী ও পুরুষ উপকৃত হচ্ছেন।