ঢাকা, বাংলাদেশ, ২ এপ্রিল: শিশুদের প্রারম্ভিক স্ক্রিন ব্যবহার তাদের সামাজিক বিকাশের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন শিশু বিশেষজ্ঞ এবং মনোরোগবিদরা। তাদের মতে, খুব ছোট বয়স থেকেই শিশুদের ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের মতো ডিভাইসের সাথে সময় কাটানো তাদের বাস্তব জীবনের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগকে সীমিত করছে।
বাস্তব জগতের সংযোগ হারানো
বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুদের স্ক্রিনের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক তাদের বাস্তব জগতের স্পর্শ, শব্দ, গন্ধ ও অন্যান্য সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত করছে। প্রারম্ভিক বয়সে এই অভিজ্ঞতার অভাব বড় হওয়ার পর তাদের মানুষের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তরুণ এবং কিশোররাও যখন বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায়, তখন তারা বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, মনোযোগ হারায় এবং মানসিক চাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়।

প্রযুক্তি বনাম মানবিক সম্পর্ক
প্রিন্সটন সাইকোথেরাপি সেন্টারের ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট মেলিসা গ্রিনবার্গ বলেন, “দৃশ্যমান উদ্দীপনা শিশুদের মন আকর্ষণ করে, কিন্তু এই সময়ে তারা বাস্তব বিশ্বের অন্যান্য অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়। এটি তাদের সামাজিক দক্ষতা ও মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলে।” অনেক বাবা-মা, বিশেষ করে মহামারির সময়, সন্তানের মনোরঞ্জনের জন্য সহজভাবে ডিভাইস ব্যবহার করেছেন, যা অজান্তে শিশুদের ডিজিটাল জগতে এক নতুন দুনিয়ার দিকে নিয়ে গেছে।
কিশোরদের জন্য ঝুঁকি
গবেষণায় দেখা গেছে, টিনএজাররা দিনে গড়ে প্রায় ৮.৫ ঘণ্টা স্ক্রিনভিত্তিক বিনোদনে সময় কাটাচ্ছে। স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যেমন অবসাদ, আগ্রাসন, নিজেকে কম মূল্যায়ন করা এবং কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার চিন্তা। অনলাইন অভ্যাস শিশুদের বাস্তব জীবনের সামাজিক যোগাযোগ ও ব্যক্তিত্ব বোঝার ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করছে।
অভিভাবকদের করণীয়
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত করা উচিত। প্রিস্কুলারের জন্য দৈনিক এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার উচিত নয়, বড়দের ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিৎ নয়। ডিভাইস ব্যবহারের সময় শিশুদের নজরদারি, নিরাপদ কন্টেন্ট এবং রাতের সময় একা থাকা অবস্থায় ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মায়ের নিজের স্ক্রিন ব্যবহারও শিশুর আচরণের ওপর প্রভাব ফেলে, তাই তাদেরও সচেতন থাকা উচিত।
শিশুদের স্বাস্থ্যকর সামাজিক বিকাশ এবং মানসিক সুস্থতার জন্য প্রারম্ভিক স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত করা এখন অপরিহার্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















