ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে, খামেনির স্থলাভিষিক্ত যে-ই হোক না কেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই উত্তরাধিকার প্রশ্নে কড়া মন্তব্য করেছেন।
সম্ভাব্য নতুন নেতা নিয়ে বিতর্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে কে আসবেন—এ প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় আসায় তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু মহলে এই সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে না।
ইসরায়েলের সরাসরি হুমকি
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খামেনির পর যে-ই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হবেন, তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হতে পারে। এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের প্রভাব ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে বড় হুমকি হিসেবে দেখে আসছে।
ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য
এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মন্তব্য করেছেন। রোববার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো সর্বোচ্চ নেতা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। ট্রাম্পের ভাষায়, “পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া বেশি দিন টিকবেন না।”
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা
ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির উত্তরসূরি নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















