০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
রাশিয়া ইউক্রেনে ২০২৬ সালের ভয়াবহতম হামলা চালাল — ১৮ জন নিহত, নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের শিশু ট্রাম্প বললেন “ইরান সবকিছুতে রাজি হয়েছে” — পারমাণবিক অস্ত্র থেকে হরমুজ, সব দাবি মেনেছে তেহরান? ইসরায়েল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ করেছে — বাড়ি ফিরছেন বাস্তুচ্যুতরা হরমুজ প্রণালী “সম্পূর্ণ উন্মুক্ত” ঘোষণা ইরানের, তেলের দাম পড়ল ১১% — বিশ্ব শেয়ারবাজারে রেকর্ড উচ্চতা গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন: বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে এই আলোচনাতেই মব সহিংসতায় কাবু বাংলাদেশ: ২০২৬-এর মাত্র তিন মাসেই ৪৯ প্রাণ গেছে ৮৮টি হামলায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারত নীরব — সম্পর্কোন্নয়নে “সতর্ক আশাবাদী” ঢাকা রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: এখনো অসম্পূর্ণ বিচার, স্মৃতি যেন এখন “অস্বস্তি” ব্যাংক রেজোলিউশন আইন ২০২৬: সহজ শর্তে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফেরত পাবেন সাবেক মালিকরা, সংস্কারের বিপরীতে হাঁটছে সরকার? ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশে এলপিজির দাম দ্বিগুণ, চার সার কারখানা বন্ধ — জ্বালানি সংকট গভীর হচ্ছে

শিনজিয়াং ও তিব্বতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: সীমান্তে বাড়ছে কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা

ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় আগামী পাঁচ বছরে সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত পরিবহন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে চীন। বিশেষ করে শিনজিয়াং ও তিব্বতের মতো দূরবর্তী সীমান্ত অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সামরিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে বেইজিং।

তিয়ানশান পর্বতমালায় নতুন মহাসড়ক
সম্প্রতি প্রকাশিত চীনের খসড়া ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিনজিয়াংয়ের দুর্গম তিয়ানশান পর্বতমালার উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে যুক্ত করতে প্রায় ৩৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে।

এই মহাসড়কটি ১৯৭০–এর দশকে নির্মিত একটি কৌশলগত সড়কের সমান্তরালে তৈরি হবে। ওই সড়কটি ১৯৬২ সালের চীন–ভারত সীমান্ত যুদ্ধের পর সামরিক চলাচল সহজ করতে নির্মিত হয়েছিল।

শিনজিয়াংয়ের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে দুসানজি–কুচা মহাসড়কের নির্মাণকাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে এবং এটি ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে সারা বছর যাতায়াত সম্ভব হবে এবং তিয়ানশান পর্বতমালা পার হতে সময় আগের তুলনায় অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসবে।

সীমান্তজুড়ে মহাসড়ক পরিকল্পনা
চীনের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের নয়টি স্থলসীমান্ত প্রদেশকে অতিক্রম করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব উপকূল বরাবর জাতীয় উপকূলীয় মহাসড়ক নির্মাণ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই উপকূলীয় মহাসড়কটি উত্তর কোরিয়ার কাছাকাছি বন্দর শহর দানদং থেকে শুরু হয়ে ভিয়েতনাম সীমান্তের দংশিং পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

এছাড়া তিব্বতে প্রবেশকারী বিদ্যমান তিনটি মহাসড়ক উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা
চীন ইতোমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম মহাসড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে ভোক্তা ব্যয় বাড়ানোই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এসব অবকাঠামোর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক সংঘাত এবং সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগও এই উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ।

শিনজিয়াং–তিব্বত রেলপথ প্রকল্প
গত আগস্টে বেইজিং শিনজিয়াং–তিব্বত রেলওয়ে কোম্পানি গঠন করেছে। এই প্রতিষ্ঠান তিব্বতের লাসা এবং শিনজিয়াংয়ের হোটানকে যুক্ত করে প্রায় ১ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ নির্মাণ তদারকি করবে।

কারাকোরাম মালভূমিতে অবস্থিত হোটান অঞ্চল গালওয়ান উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছে। এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্র।

১৯৬২ সালের যুদ্ধে এবং ২০২০ সালে সংঘটিত প্রাণঘাতী সংঘর্ষের কারণে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই উত্তেজনা প্রশমিত হতে শুরু করেছে মাত্র গত বছর থেকে।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দ্বৈত লক্ষ্য
শাংহাই আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ এশিয়া গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক লিউ জংইয়ের মতে, সীমান্ত অঞ্চলে অবকাঠামো সম্প্রসারণের পেছনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতা—দুই লক্ষ্যই কাজ করছে।

চীনা নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে মনে করে যে উন্নয়নের প্রথম ধাপ হলো সড়ক নির্মাণ। উপকূলীয় সমৃদ্ধ অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে থাকা সীমান্ত এলাকাগুলোর অর্থনীতি উন্নত করতে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

লিউ বলেন, অবকাঠামোর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জনবল ও সম্পদ সীমান্ত অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হলে সীমান্ত স্থিতিশীলতা ও জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী হয়।

চীন–ভারত সীমান্তে প্রতিযোগিতামূলক অবকাঠামো
গালওয়ান সংঘর্ষের পর চীন ও ভারত—দুই দেশই সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২২ সালে চীন তিব্বতের লুনজে এবং শিনজিয়াংয়ের মাজাকে যুক্ত করে একটি নতুন মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই সড়কটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি বিতর্কিত অঞ্চল—যেমন দেপসাং সমভূমি, গালওয়ান উপত্যকা এবং হট স্প্রিংস এলাকার কাছ দিয়ে যাবে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালে ভারত সরকার অরুণাচল ফ্রন্টিয়ার হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন দেয়। প্রায় ১ হাজার ৬৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ১২টি জেলা ও ১ হাজার ৬৮৩টি গ্রামকে যুক্ত করবে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক উত্তেজনা
এই অবকাঠামো নির্মাণকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শাকসগাম উপত্যকায় চীনের সড়ক নির্মাণ নিয়ে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।

শাকসগাম উপত্যকা বর্তমানে শিনজিয়াংয়ের কাশগর অঞ্চলের অংশ হিসেবে চীনের প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। তবে ভারত এই এলাকাকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের নির্মাণকাজকে অবৈধ দখল বলে আখ্যা দেয়। জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই এলাকা চীনের অন্তর্ভুক্ত এবং নিজেদের ভূখণ্ডে অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া ইউক্রেনে ২০২৬ সালের ভয়াবহতম হামলা চালাল — ১৮ জন নিহত, নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের শিশু

শিনজিয়াং ও তিব্বতে শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন: সীমান্তে বাড়ছে কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থা

০৯:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় আগামী পাঁচ বছরে সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত পরিবহন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে চীন। বিশেষ করে শিনজিয়াং ও তিব্বতের মতো দূরবর্তী সীমান্ত অঞ্চলে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সামরিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে বেইজিং।

তিয়ানশান পর্বতমালায় নতুন মহাসড়ক
সম্প্রতি প্রকাশিত চীনের খসড়া ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিনজিয়াংয়ের দুর্গম তিয়ানশান পর্বতমালার উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে যুক্ত করতে প্রায় ৩৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে।

এই মহাসড়কটি ১৯৭০–এর দশকে নির্মিত একটি কৌশলগত সড়কের সমান্তরালে তৈরি হবে। ওই সড়কটি ১৯৬২ সালের চীন–ভারত সীমান্ত যুদ্ধের পর সামরিক চলাচল সহজ করতে নির্মিত হয়েছিল।

শিনজিয়াংয়ের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে দুসানজি–কুচা মহাসড়কের নির্মাণকাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে এবং এটি ২০৩২ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে সারা বছর যাতায়াত সম্ভব হবে এবং তিয়ানশান পর্বতমালা পার হতে সময় আগের তুলনায় অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসবে।

সীমান্তজুড়ে মহাসড়ক পরিকল্পনা
চীনের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের নয়টি স্থলসীমান্ত প্রদেশকে অতিক্রম করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব উপকূল বরাবর জাতীয় উপকূলীয় মহাসড়ক নির্মাণ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এই উপকূলীয় মহাসড়কটি উত্তর কোরিয়ার কাছাকাছি বন্দর শহর দানদং থেকে শুরু হয়ে ভিয়েতনাম সীমান্তের দংশিং পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

এছাড়া তিব্বতে প্রবেশকারী বিদ্যমান তিনটি মহাসড়ক উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা
চীন ইতোমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম মহাসড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের মাধ্যমে ভোক্তা ব্যয় বাড়ানোই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এসব অবকাঠামোর কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক সংঘাত এবং সন্ত্রাসবাদের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্বেগও এই উদ্যোগের পেছনে বড় কারণ।

শিনজিয়াং–তিব্বত রেলপথ প্রকল্প
গত আগস্টে বেইজিং শিনজিয়াং–তিব্বত রেলওয়ে কোম্পানি গঠন করেছে। এই প্রতিষ্ঠান তিব্বতের লাসা এবং শিনজিয়াংয়ের হোটানকে যুক্ত করে প্রায় ১ হাজার ৯৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ নির্মাণ তদারকি করবে।

কারাকোরাম মালভূমিতে অবস্থিত হোটান অঞ্চল গালওয়ান উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছে। এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্র।

১৯৬২ সালের যুদ্ধে এবং ২০২০ সালে সংঘটিত প্রাণঘাতী সংঘর্ষের কারণে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই উত্তেজনা প্রশমিত হতে শুরু করেছে মাত্র গত বছর থেকে।

অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দ্বৈত লক্ষ্য
শাংহাই আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ এশিয়া গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক লিউ জংইয়ের মতে, সীমান্ত অঞ্চলে অবকাঠামো সম্প্রসারণের পেছনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতা—দুই লক্ষ্যই কাজ করছে।

চীনা নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে মনে করে যে উন্নয়নের প্রথম ধাপ হলো সড়ক নির্মাণ। উপকূলীয় সমৃদ্ধ অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে থাকা সীমান্ত এলাকাগুলোর অর্থনীতি উন্নত করতে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

লিউ বলেন, অবকাঠামোর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত জনবল ও সম্পদ সীমান্ত অঞ্চলে পাঠানো সম্ভব হলে সীমান্ত স্থিতিশীলতা ও জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী হয়।

চীন–ভারত সীমান্তে প্রতিযোগিতামূলক অবকাঠামো
গালওয়ান সংঘর্ষের পর চীন ও ভারত—দুই দেশই সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২২ সালে চীন তিব্বতের লুনজে এবং শিনজিয়াংয়ের মাজাকে যুক্ত করে একটি নতুন মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই সড়কটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি বিতর্কিত অঞ্চল—যেমন দেপসাং সমভূমি, গালওয়ান উপত্যকা এবং হট স্প্রিংস এলাকার কাছ দিয়ে যাবে।

অন্যদিকে ২০২৪ সালে ভারত সরকার অরুণাচল ফ্রন্টিয়ার হাইওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন দেয়। প্রায় ১ হাজার ৬৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ১২টি জেলা ও ১ হাজার ৬৮৩টি গ্রামকে যুক্ত করবে বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক উত্তেজনা
এই অবকাঠামো নির্মাণকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শাকসগাম উপত্যকায় চীনের সড়ক নির্মাণ নিয়ে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।

শাকসগাম উপত্যকা বর্তমানে শিনজিয়াংয়ের কাশগর অঞ্চলের অংশ হিসেবে চীনের প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। তবে ভারত এই এলাকাকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের নির্মাণকাজকে অবৈধ দখল বলে আখ্যা দেয়। জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই এলাকা চীনের অন্তর্ভুক্ত এবং নিজেদের ভূখণ্ডে অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত।