রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ কারাগারে কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি মনে করেন, এ পরিস্থিতি শুধু মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনই নয়, বরং দেশের বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় ব্যর্থতার প্রতিফলন।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নতুন সংসদের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাজধানীতে সংলাপ
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারাগারে থাকা মানুষের বিষয়টি রাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের।
তিনি বলেন, আইনের শাসন রক্ষা এবং নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। অথচ বর্তমানে অনেক মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারা হেফাজতে থেকে মানবাধিকার সংকটের মুখে পড়ছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বড় পরীক্ষা
সংলাপে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশে রেহমান সোবহান বলেন, বেআইনিভাবে কারা হেফাজতে থাকা মানুষের মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করা এখন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
তার মতে, যারা অন্যায়ভাবে কারাগারে রয়েছেন, তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং আইনের শাসনের কার্যকারিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

রাজনীতিতে প্রতিহিংসার চক্র
রেহমান সোবহান বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি দুঃখজনক প্রবণতা দেখা যায়। ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো প্রায়ই বিরোধীদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
তিনি বলেন, আবার যখন সেই বিরোধীরাই ক্ষমতায় আসে, তখন আইনগত প্রক্রিয়ায় বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে তারাও একইভাবে প্রতিপক্ষের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পথে হাঁটে। ফলে প্রতিহিংসার একটি চক্র তৈরি হয়, যা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য ক্ষতিকর।
নতুন সংসদের সামনে চ্যালেঞ্জ
নতুন সংসদ সদস্যদের সামনে বড় প্রশ্ন কী হবে—সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা নিজেদের মানবাধিকারের পক্ষে বলে দাবি করেন, তারা কতটা সত্যিকারের আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পারবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তার মতে, দেশে একটি সত্যিকারের স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। বিচারব্যবস্থা যেন মানবাধিকার রক্ষার হাতিয়ার হয়, লঙ্ঘনের নয়—এই নিশ্চয়তা দিতে হবে রাষ্ট্রকে।
মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
অধ্যাপক রেহমান সোবহান আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস হবে। তবে কমিশন কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সরকারের সদিচ্ছার ওপর।
তিনি বলেন, অতীতে অনেক সময়ই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এবারও যদি একই অবহেলা দেখা যায়, তবে মানবাধিকার সুরক্ষার লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 









