পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ তুলেছেন, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়, বরং চাপ ও প্রভাব খাটিয়ে রাজ্য দখলের একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
‘ঘোষণাহীন জরুরি পরিস্থিতি’—মমতার বিস্ফোরক মন্তব্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত ঘোষণাহীন জরুরি অবস্থার মতো। তাঁর ভাষায়, গণতন্ত্রের নীতি নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাংলার মানুষ এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়বে এবং বিভাজনমূলক কোনো চেষ্টাকেই সফল হতে দেবে না।

অভিযোগের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন সূচি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্রসচিব ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রশাসনে ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ অভিযোগ
মমতা দাবি করেন, ৫০ জনের বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং উচ্চস্তরের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা ও অপরাধ দমন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদেরও রাজ্যের বাইরে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও জানান।
ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পর বিপুল সংখ্যক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এবং লক্ষাধিক ভোটার যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। এখনো সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাঁর।
বিজেপিকে নিশানা, ‘জনসমর্থন না পেয়ে চাপ প্রয়োগ’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন ভয় দেখানো, প্রভাব খাটানো ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে রাজ্য দখলের চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এত মরিয়া হয়ে বাংলাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে, যা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একদিকে কর্মকর্তাদের নির্বাচন দায়িত্ব থেকে সরানো হচ্ছে, অন্যদিকে একই কর্মকর্তাদের অল্প সময়ের মধ্যেই অন্য ভূমিকায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—একে তিনি বিশৃঙ্খলা ও অদক্ষতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ বা কারণ ছাড়াই কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে, যা সাংবিধানিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 









