০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
অর্থমন্ত্রী সতর্কবার্তা: সামনে দুই বছর কঠিন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কষ্টের সিদ্ধান্ত জরুরি মঞ্চে ঝড় তোলেন, তবু বুকের ভেতর কাঁপন—জুডি লাভের অজানা লড়াই মনোরোগ বিশেষজ্ঞ থেকে রহস্যকাহিনি লেখক: নতুন উপন্যাসে চমক দিলেন ফিলিপা পেরি সকালে কমে, বিকেলে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম নাটক থেকেই শুরু, এখন ওয়েবটুন-উপন্যাসে বিস্তার—বিনোদন জগতে নতুন ধারা জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত হবে না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি বিসিবি নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু, ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা অন্ধকার থেকে আলো—ব্যক্তিগত সংগ্রামকে হাসিতে বদলে নতুন মঞ্চে অ্যাঞ্জেলা ড্রাভিড ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন কৌশল গড়ছে উত্তর কোরিয়া, সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের প্রযুক্তি কৌশলই অনুসরণ করছে

ভোটার তালিকা ঘিরে রহস্য: এক আবেদনকারীর নামে ৫৪৪ নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম, আতঙ্কে উত্তরপ্রদেশের গ্রাম

উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার লৌহারিপুর গ্রামে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় হঠাৎই সামনে আসে ৫৪৪ জন বাসিন্দার নামে জমা পড়া নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র, যা এখন পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক আবেদনকারীর নামে শত শত ফর্ম

নির্বাচনী সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নাম বাদ দেওয়ার জন্য যে নির্দিষ্ট ফর্ম ব্যবহৃত হয়, সেই ফর্মে লৌহারিপুর গ্রামের ৫৪৪ জনের নাম পাওয়া যায়। অবাক করার বিষয়, সব ফর্মেই আবেদনকারী হিসেবে একই নাম—বেদ পাল। এই সংখ্যা গ্রামের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক, যা বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ফর্মগুলো আগে থেকেই ভোটার পরিচয়পত্র নম্বরসহ পূরণ করা ছিল এবং তাতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্টরা নাকি গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু গ্রামবাসীরা এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তালিকাভুক্ত প্রত্যেকেই এখনো গ্রামেই বসবাস করছেন, এমনকি সরকারি চাকরিজীবীরাও রয়েছেন।

The 544 Names in an Envelope: A Village in UP Uncovers a Massive Bid to  Purge its Voters

প্রশাসনের ব্যাখ্যায় অসন্তোষ

ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে এক স্থানীয় যুবকের মাধ্যমে, যিনি ফর্মগুলো দেখে বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে গ্রামবাসীরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফর্মগুলো ভুয়া এবং এতে কোনো বাস্তবতা নেই।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন গ্রামবাসীরা। তাঁদের প্রশ্ন, যদি ফর্মগুলো ভুয়া হয়, তবে সেগুলো কোথা থেকে এলো, এবং কেন একই ব্যক্তির নামে এতগুলো আবেদন জমা পড়ল—এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

তদন্ত নিয়ে নতুন প্রশ্ন

জেলা প্রশাসন তদন্তের কথা বললেও, আবেদনকারী বেদ পালকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কাছের একটি গ্রামে থাকেন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিভ্রান্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ফর্মগুলোর উৎস সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না।

 

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও চাপ

বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং অভিযোগ করছেন, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কেন এই ফর্মগুলো বহন করছিলেন এবং পুরো বিষয়টি কেন স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হচ্ছে না।

অনিশ্চয়তায় গ্রামবাসী

গ্রামের সাবেক প্রধানসহ অনেক বাসিন্দার নাম এই তালিকায় থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো বিষয়টি ধরা না পড়লে হয়তো অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে যেত।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎকণ্ঠা বাড়ছে লৌহারিপুরে। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও গ্রামবাসীরা এখনো নিশ্চিত নন তাঁদের ভোটাধিকার নিরাপদ কি না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থমন্ত্রী সতর্কবার্তা: সামনে দুই বছর কঠিন—অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কষ্টের সিদ্ধান্ত জরুরি

ভোটার তালিকা ঘিরে রহস্য: এক আবেদনকারীর নামে ৫৪৪ নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম, আতঙ্কে উত্তরপ্রদেশের গ্রাম

০৬:৫৭:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার লৌহারিপুর গ্রামে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় হঠাৎই সামনে আসে ৫৪৪ জন বাসিন্দার নামে জমা পড়া নাম বাদ দেওয়ার আবেদনপত্র, যা এখন পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক আবেদনকারীর নামে শত শত ফর্ম

নির্বাচনী সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নাম বাদ দেওয়ার জন্য যে নির্দিষ্ট ফর্ম ব্যবহৃত হয়, সেই ফর্মে লৌহারিপুর গ্রামের ৫৪৪ জনের নাম পাওয়া যায়। অবাক করার বিষয়, সব ফর্মেই আবেদনকারী হিসেবে একই নাম—বেদ পাল। এই সংখ্যা গ্রামের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক, যা বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

স্থানীয়দের দাবি, ফর্মগুলো আগে থেকেই ভোটার পরিচয়পত্র নম্বরসহ পূরণ করা ছিল এবং তাতে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্টরা নাকি গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু গ্রামবাসীরা এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তালিকাভুক্ত প্রত্যেকেই এখনো গ্রামেই বসবাস করছেন, এমনকি সরকারি চাকরিজীবীরাও রয়েছেন।

The 544 Names in an Envelope: A Village in UP Uncovers a Massive Bid to  Purge its Voters

প্রশাসনের ব্যাখ্যায় অসন্তোষ

ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে এক স্থানীয় যুবকের মাধ্যমে, যিনি ফর্মগুলো দেখে বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে গ্রামবাসীরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফর্মগুলো ভুয়া এবং এতে কোনো বাস্তবতা নেই।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন গ্রামবাসীরা। তাঁদের প্রশ্ন, যদি ফর্মগুলো ভুয়া হয়, তবে সেগুলো কোথা থেকে এলো, এবং কেন একই ব্যক্তির নামে এতগুলো আবেদন জমা পড়ল—এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি।

তদন্ত নিয়ে নতুন প্রশ্ন

জেলা প্রশাসন তদন্তের কথা বললেও, আবেদনকারী বেদ পালকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কাছের একটি গ্রামে থাকেন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিভ্রান্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ফর্মগুলোর উৎস সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না।

 

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও চাপ

বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং অভিযোগ করছেন, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁদের প্রশ্ন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কেন এই ফর্মগুলো বহন করছিলেন এবং পুরো বিষয়টি কেন স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হচ্ছে না।

অনিশ্চয়তায় গ্রামবাসী

গ্রামের সাবেক প্রধানসহ অনেক বাসিন্দার নাম এই তালিকায় থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো বিষয়টি ধরা না পড়লে হয়তো অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে যেত।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎকণ্ঠা বাড়ছে লৌহারিপুরে। প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও গ্রামবাসীরা এখনো নিশ্চিত নন তাঁদের ভোটাধিকার নিরাপদ কি না।