ভারত চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিক্রম দোরাইস্বামীকে নিয়োগ দিয়েছে। দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও চীন বিষয়ে বিশেষ দক্ষতার কারণে এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কে এই বিক্রম দোরাইস্বামী
১৯৯২ ব্যাচের ভারতীয় বিদেশসেবা কর্মকর্তা বিক্রম দোরাইস্বামী কূটনৈতিক জীবনের শুরুতেই চীনে কাজ করেছেন। কর্মজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি হংকংয়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে চীনা ভাষায় বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে বেইজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসে প্রায় চার বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তার এই ভাষাগত দক্ষতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতাই নতুন দায়িত্ব পালনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগ
ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার পর ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ২০২০ সালের সীমান্ত অচলাবস্থার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে গেছে।
বিশেষ করে সীমান্ত চুক্তি ও দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এমন সময়ে একজন অভিজ্ঞ ও চীন-জানা কূটনীতিককে দায়িত্ব দেওয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বিস্তৃত কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা
বিক্রম দোরাইস্বামী এর আগে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও উজবেকিস্তানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।
_20260320121454_original_image_28.webp)
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি আমেরিকা, বাংলাদেশ-মিয়ানমার, সার্ক এবং ইন্দো-প্যাসিফিক বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া তিনি দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী ও মনমোহন সিংয়ের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন।
সামনে কী চ্যালেঞ্জ
চীনে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সময় সীমান্তে এখনো সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাই কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও উত্তেজনা কমানোই হবে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
একই সঙ্গে বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষা করাও এই নিয়োগের বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 









