দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর আবারও রাজ্য রাজনীতির ময়দানে ফিরলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে এবার বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নতুন করে লড়াই শুরু করছেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন দশক পর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক উত্তাপ।
নতুন করে শুরু করার অঙ্গীকার
অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে বামেদের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে তিনি প্রথমবার লড়াই করেছিলেন। যদিও অল্প ব্যবধানে হেরেছিলেন, তবে পরবর্তী সময়ে বহরমপুর থেকেই নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করেন।
সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলীয় নির্দেশে আবারও বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। নিজেই জানিয়েছেন, এটি তার কাছে একেবারে নতুন করে শুরু করার মতো।
![]()
পুরনো সহকর্মীদের বিরুদ্ধে লড়াই
এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তারই প্রাক্তন সহযোগীরা। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নরুগোপাল মুখার্জি এবং বিজেপির বিধায়ক সুব্রত মৈত্রর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। একসময় যারা তার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন, এখন তারাই প্রতিদ্বন্দ্বী।
এদিকে বামফ্রন্ট এখনও এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা না করায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেস একা লড়াই করায় অধীরের জন্য পথ কঠিন হলেও তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
জনসমর্থন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
মুর্শিদাবাদে দীর্ঘ চার দশকের কাজের কারণে অধীর চৌধুরীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এখনও দৃঢ় বলে দাবি তার অনুগামীদের। স্থানীয় নেতাদের মতে, উন্নয়নমূলক কাজের ছাপ রয়েছে প্রায় প্রতিটি পরিবারে।
তবে বাস্তবতা বলছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রভাব তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল। যদিও একই সময়ে বহরমপুর বিধানসভা অংশে তিনি এগিয়ে ছিলেন, যা তাকে নতুন করে আশা দেখাচ্ছে।
উত্তপ্ত প্রচার ও কড়া বক্তব্য
নির্বাচনী প্রচারে ইতিমধ্যেই উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপি প্রার্থী নিজের শক্ত অবস্থানের কথা বলছেন, অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী অধীরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
এই পরিস্থিতিতে অধীর চৌধুরী নিজের ভরসা রাখছেন জনতার উপরই। তার কথায়, বহরমপুরের মানুষ কখনও তাকে খালি হাতে ফেরাননি।
সামনে কঠিন পরীক্ষা
এবারের নির্বাচন অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দীর্ঘদিনের সাংসদ জীবন শেষে বিধানসভায় প্রত্যাবর্তন তার জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি নিজের অবস্থান প্রমাণের সুযোগও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















