ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে আসন্ন নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। নিজেদের নবাব মীর জাফরের বংশধর দাবি করা অন্তত ৩৪৬ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এতে করে নাগরিকত্ব প্রমাণে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, উদ্বেগে পরিবারগুলো
স্থানীয় সূত্র জানায়, লালবাগ নব আদর্শ হাই স্কুলের একটি ভোটকেন্দ্রে নিবন্ধিত এসব নাম সাম্প্রতিক বিশেষ পুনর্বিবেচনার সময় ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে তা সম্পূর্ণভাবে তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
‘ছোটে নবাব’সহ প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরাও বাদ
এই তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলি মির্জা, যিনি এলাকায় ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত। তার সঙ্গে পরিবারের আরও নয়জন সদস্যের নামও বাদ পড়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার ছেলেও স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে নির্বাচন কর্মকর্তারা আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত নাম কেটে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ঐতিহ্য ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন
মির্জা পরিবার দাবি করছে, তারা মীর জাফরের ১৫তম প্রজন্মের বংশধর এবং তাদের ভারতীয় পরিচয় নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। তারা উল্লেখ করেন, অতীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও তাদের বংশপরিচয়ের স্বীকৃতি রয়েছে। পাশাপাশি ইতিহাসের নানা ঘটনার কথাও তুলে ধরে তারা বলেন, দেশভাগের সময় তাদের পূর্বপুরুষরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

নির্বাচনের আগে আইনি লড়াইয়ের আশঙ্কা
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে তারা ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। তবে তাদের আশঙ্কা, ভোটের প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার আগেই এই প্রক্রিয়া শেষ নাও হতে পারে। ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন তারা।
প্রশাসনের অবস্থান
মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, এ ধরনের ব্যাপক নাম বাদ পড়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অভিযোগ পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তার পথ দেখানো হবে বলে তিনি জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















