ওয়াশিংটন থেকে সারাক্ষণ রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে এবং তেহরানকে যুদ্ধে শান্তি চুক্তিতে আসার জন্য বাধ্য করতে কোনো আলাদা চুক্তি করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব দ্রুত চলে যেতে যাচ্ছি,” এবং যোগ করেন যে যখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা কঠোরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে। তিনি আবারও জোর দিয়েছেন যে ইরানকে কোনো দরকষাকষি বা আলোচনায় বসতে বাধ্য করা একটি অগ্রাধিকারের শর্ত নয়।
জটিল মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপট
এই মন্তব্যগুলো এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনার মাঝখানে যেখানে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ স্থিতিশীল হয়ে ওঠে নি এবং কিছু ক্ষেত্রে আরও জোরদার হয়েছে। যুদ্ধ ইতোমধ্যেই পঞ্চম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং এতে হাজার হাজার লোকের প্রাণহানি, লক্ষাধিক লোকের বাস্তুচ্যুতি এবং বিশ্বব্যাপী তেল বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে।

ট্রাম্প সরকারের কৌশল
ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের উদ্দেশ্য হিসেবে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা এবং সামরিক শক্তি কমিয়ে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে বলে দাবি করেছিল। ট্রাম্প বলেন যে “ইরানকে স্টোন এজে ফেলা” পর্যন্ত প্রতিপক্ষের সামর্থ্য কমিয়ে আনা হলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের দিকে এগোবে। তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত বিষয়টিও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যেখানে ট্রাম্প বলেছেন এটি যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব না বলে মন্তব্য করেছেন, যদিও অন্যান্য বিশ্লেষক মনে করেন এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তেলের বাজারে অস্থিরতা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চাপের কারণে বিভিন্ন দেশই যুদ্ধের দ্রুত সমাধান চাইছে। একই সাথে, যুদ্ধের দীর্ঘায়িততা মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা আরও বাড়াতে পারে এমন উদ্বেগ সহায় আন্তর্জাতিক মহলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















