যুক্তরাষ্ট্র আর চাঁদকে কখনো ছাড়বে না—এমন দৃঢ় সংকল্প নাসার প্রধান জারেড আইজ্যাকম্যানের মার্চ ২৪ তারিখের মেমোতে প্রকাশ পেয়েছে। চীনের সঙ্গে চাঁদে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন স্থাপনের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, নাসা নতুনভাবে তাদের চাঁদ অভিযানের রূপরেখা সাজিয়েছে। শেষ অর্থায়ন, বিলম্বিত সময়সূচি এবং জটিলতায় ভরা আর্টেমিস প্রোগ্রামের সীমাবদ্ধতাকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত রূপ পেয়েছে। তবে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রথম মানুষ চাঁদের মাটিতে পৌঁছাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

নাসার এই নতুন পরিকল্পনা তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত। প্রথম পর্যায়ে সর্বাধিক ১৫টি রোবটিক ল্যান্ডার চাঁদে পাঠানো হবে, যা ভবিষ্যতের মানব অভিযান ও চাঁদঘর নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ ও পর্যবেক্ষণের কাজ করবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে, নির্ধারিত স্থানে প্রতি ছয় মাস অন্তর মানুষ এবং রোবট একসাথে পৌঁছে দীর্ঘ সময় থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করবে। এর ফলে চাঁদ নাসার আগামী এক দশকের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠবে, আর প্রথম মানব অভিযানের গুরুত্ব কিছুটা নষ্ট হবে।
ইগনিশন শীর্ষক এক দিনের এই অনুষ্ঠানে চাঁদকেন্দ্রিক পরিকল্পনার পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার ও অন্য প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে আর্টেমিস প্রোগ্রামের রকেট SLS, যা ব্যয়বহুল ও জটিল, পরবর্তী অভিযানে ব্যবহার করা হবে, তবে নাসা এখন বাণিজ্যিক উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সমাধান খুঁজছে। পূর্বের চাঁদ-অবস্থান স্টেশন, লুনার গেটওয়ে, বাতিল করে স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি সম্ভবত নিম্ন পৃথিবী কক্ষে সম্পন্ন হবে।

গেটওয়ের পাওয়ার ও প্রপালশন এলিমেন্ট (PPE) এখন নতুন মিশন স্পেস রিয়্যাক্টর-১ ফ্রিডম (SR-1) এর জন্য ব্যবহার করা হবে। ২০২৮ সালের শেষে মঙ্গল ও পৃথিবীর অবস্থান সামঞ্জস্য হলে এই মহাকাশযান মহাশূন্যে প্রেরণ করা হবে। মঙ্গলে পৌঁছালে তিনটি ছোট হেলিকপ্টার ড্রোন স্থানীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করবে। তবে SR-1 এর মূল লক্ষ্য পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে গভীর মহাকাশে চালনা ব্যবস্থা এবং চাঁদ ও মঙ্গলে মানব অভিযানকে সক্ষম করা। নতুন প্রযুক্তি যেমন বিকিরণ থেকে ইলেকট্রনিক সুরক্ষা এবং অতিরিক্ত তাপ সরানোর পদ্ধতি ভবিষ্যতের বড় মিশনের পথ প্রশস্ত করবে।
নাসা এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। তবে প্রকল্প সফল করতে ত্বরান্বিত কাজের ক্ষমতাও প্রয়োজন, যাতে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সময়মতো সম্ভব হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















