মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। এই প্রভাব পড়েছে নওগাঁর মোটরসাইকেল বাজারেও। আগের মতো নেই ক্রেতাদের ভিড়। চলমান যুদ্ধ এবং তেল সংকটের কারণে জেলায় মোটরসাইকেল বিক্রি প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
নওগাঁর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, যুদ্ধের আগে দিনে ৭-৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন সেই সংখ্যা নেমে শূন্যে। দেশের বিভিন্ন পাম্পে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ক্রেতারা মোটরসাইকেল কিনতে আগ্রহী নয়। অনেক পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে। ফলে সার্ভিসিংয়ের জন্যও মোটরসাইকেল বাজারে গতি নেই।

সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের শোরুমগুলোতে দেখা যায়, ক্রেতা শূন্য। সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও অচল অবস্থা। বিআরটিএ নওগাঁ কার্যালয় অনুযায়ী, জেলায় মোটরসাইকেল নিবন্ধিত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার, অনিবন্ধিত রয়েছে প্রায় ১ লাখ। জেলার ১১টি উপজেলায় শতাধিক বিক্রয় শোরুম রয়েছে।
নওগাঁর তালতলী এলাকার স্কুল শিক্ষক নাসির হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন টাকা জমিয়ে রেখেছিলাম ঈদের আগে একটি মোটরসাইকেল কিনতে। কিন্তু তেলের দীর্ঘ লাইনের কারণে ক্রয় স্থগিত রেখেছি। হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, ঈদের তৃতীয় দিনের পর থেকে এক জন ক্রেতাও আসেনি। চলমান পরিস্থিতির আগে দিনে ৫-৭টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন শূন্য। অন্যান্য বছর ঈদে ৩০০-৪০০ পিস বিক্রি হলেও এ বছর মাত্র ১০০টি বিক্রি হয়েছে। শোরুম পরিচালনার দৈনিক খরচ ৪০-৪৫ হাজার টাকা হলেও বিক্রি নেই।

আরিস মোটরসের স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, ৯ বছরের ব্যবসায় জীবনে এ বছর সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা। টার্গেট ছিল ২৫০টি বিক্রি, কিন্ত এতদিনে মাত্র ১১০টি বিক্রি হয়েছে। সার্ভিসিংয়ের জন্য কেউ আসছে না, তেলের জন্য ক্রেতারা মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে বের করছেন না। এই পরিস্থিতি চললে ব্যবসায়ীদের বড় লোকসান অনিবার্য।
টিভিএস বাইক ওয়ার্ল্ডের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদনান আনসারী জানান, আগে দিনে ২৫-৩০টি গাড়ি সার্ভিসিংতে আসত, এখন এক থেকে দুইটাও আসে না। বিআরটিএ নওগাঁর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা তিন মাস অন্তর অনুষ্ঠিত হয়। তেল না থাকায় এবং মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন বাধার কারণে এখনো চাপ লক্ষ্য করা যায়নি, তবে মাস খানেকের মধ্যে তার প্রভাব দেখা যাবে।
নওগাঁ প্রতিনিধি 



















