দীর্ঘ কয়েক মাসের ইন্টারনেট অচলাবস্থার পর ধীরে ধীরে সংযোগ ফিরতে শুরু করেছে ইরানে। তবে আগের মতো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি পরিস্থিতি। বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও সীমিত সংযোগ দেখা যাচ্ছে, আর অনেক জনপ্রিয় যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়তি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা সংযোগ ফিরে এলেও সাধারণ মানুষের জন্য যোগাযোগ এখনও কঠিন হয়ে আছে। বিশেষ করে পরিবার ও প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগে ভোগান্তির অভিযোগ বাড়ছে।
নতুন নিয়ন্ত্রণে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট ফিরলেও আগের তুলনায় আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ চালু হয়েছে। বিশেষ করে বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

এর আগেও সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় একই ধরনের ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা ঘটেছিল। তখনও সংযোগ ফেরানোর পর আরও কড়াকড়ি দেখা গিয়েছিল। এবারও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
সংঘাতের পর বাড়ে বিধিনিষেধ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরুর পর ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে দেশের বাইরে তথ্য প্রবাহও অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। যদিও এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে কিছু সেবা চালু করা হয়।
তবে সংযোগ স্বাভাবিক হওয়ার আগেই নতুন এক ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান সরকার। “ইন্টারনেট প্রো” নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের জন্য অর্থের বিনিময়ে উন্নতমানের ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই সুবিধা পেতে পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিকল্প পথে ইন্টারনেট ব্যবহার
কঠোর নিয়ন্ত্রণ এড়াতে অনেক ইরানি নাগরিক বিকল্প উপায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। কেউ ব্যয়বহুল ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন, আবার কেউ গোপনে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি দেশে আনার চেষ্টা করছেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেট সংযোগ ফিরলেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ নীতির কারণে সাধারণ মানুষের ডিজিটাল স্বাধীনতা আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে। এতে তথ্যপ্রবাহ, যোগাযোগ এবং অনলাইন ব্যবসার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















