প্রচণ্ড গরম আর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সৌদি আরবের মক্কার কাছে আরাফাত ময়দানে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিয়েছেন লাখো মুসল্লি। মঙ্গলবার ভোর থেকে জাবালে রহমত বা আরাফাতের পাহাড় ঘিরে ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন ছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজিরা।
প্রায় ৭০ মিটার উঁচু এই পাথুরে পাহাড়কে ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায়ী হজের ভাষণ এখানেই দিয়েছিলেন প্রায় ১,৪০০ বছর আগে। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
যুদ্ধের ছায়াতেও অব্যাহত হজযাত্রা
এ বছরের হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংঘাত চলাকালে ইরান একাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার প্রভাব সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাতেও পড়ে।

তবুও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর বিদেশ থেকে আগত হাজির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। এবার মোট ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি হজে অংশ নিয়েছেন।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান থেকে হাজির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এবার প্রায় ৩০ হাজার ইরানি হজে অংশ নিয়েছেন, যেখানে আগে ৮৬ হাজার হাজির আসার পরিকল্পনা ছিল। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণেই এই সংখ্যা কমেছে বলে জানানো হয়েছে।
তীব্র গরমে সতর্কতা
মক্কায় গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। মঙ্গলবারও আরাফাত এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি ছিল। তীব্র গরমে হাজিদের নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
হাজিদের বেশি করে পানি পান, রোদ থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং দীর্ঘ সময় খোলা স্থানে অবস্থানের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুরুষ হাজিদের মাথা ঢাকার নিয়ম না থাকায় অনেকে ছাতা ব্যবহার করে গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছেন।
আরাফাতের পর মিনার আনুষ্ঠানিকতা
আরাফাতে অবস্থানের পর হাজিরা রাতে মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। সেখানে তাঁরা পাথর সংগ্রহ করবেন, যা পরে মিনায় শয়তানকে প্রতীকীভাবে পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যবহার করা হবে। বুধবার থেকে শুরু হবে সেই আনুষ্ঠানিকতা।
হজ ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করার বিধান রয়েছে।
সৌদি রাজপরিবার দীর্ঘদিন ধরেই হজ ব্যবস্থাপনাকে নিজেদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বৈধতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখে আসছে। সৌদি বাদশাহ “দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম” উপাধি ধারণ করেন, যা মক্কা ও মদিনার সঙ্গে দেশটির সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















