রাজধানী ঢাকায় টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির মধ্যে বুধবার সকালেও ভারী বর্ষণ ও বজ্রসহ বৃষ্টি নগরজীবনে নতুন ভোগান্তি তৈরি করেছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কেনাকাটা, পশুর হাট ও ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় এই বৃষ্টি বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে সড়ক চলাচল ব্যাহত হয়েছে, আর ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী ও সাধারণ মানুষ।
সকালের দিক থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল ঘন কালো মেঘে ঢাকা। বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর নতুন করে এই বর্ষণ নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
ঈদযাত্রায় বাড়ছে চাপ
ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। তবে বৃষ্টি ও সড়কের দুরবস্থার কারণে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ বের হওয়ার পথে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও যানজট আরও বেড়েছে। পিচ্ছিল সড়ক, কম দৃশ্যমানতা এবং থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের যাত্রা দীর্ঘ ও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, বৃষ্টির মধ্যে বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সমস্যা হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছাতে।
পশুর হাটে কাদাপানি ও দুর্ভোগ
বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতেও। কাদাপানি জমে হাটের পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। পশু পরিবহন, নামানো এবং ক্রেতাদের পশু দেখা—সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে দুর্ভোগ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে পশু পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে। অনেক এলাকায় কাদাময় রাস্তার কারণে গাড়ি প্রবেশেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতারাও ভেজা ও পিচ্ছিল পরিবেশে পশু বাছাই করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
আবহাওয়ার আরও অবনতির শঙ্কা
আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে ঈদকে ঘিরে চলমান প্রস্তুতি, যাতায়াত ও পশুর হাটের কার্যক্রমে আরও বিঘ্ন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে, যেখানে একদিনে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















