০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক ঈদগাহ ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ঈদ প্রস্তুতিতে ভোগান্তি বাড়ছে হামে ভয়াবহতা বাড়ছেই, আরও ১০ শিশুর মৃত্যু যুদ্ধ যখন যন্ত্রের গতিতে, রাজনীতি কি তখনও মানুষের থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষ হওয়ার অর্থ কী ইরানের মহাকাব্য ‘শাহনামা’: যে কাব্য বাঁচিয়ে রেখেছে পারস্যের আত্মা গার্দিওলার বিদায় মঞ্চে মাইকেল জর্ডানের আবেগঘন বার্তা, কেঁদে ফেললেন ম্যানসিটি কোচ চীনের মহাকাশে ইতিহাস, প্রথমবারের মতো হংকংয়ের নারী নভোচারীর যাত্রা আফগানিস্তানে মেয়েদের স্বপ্ন এখন বিয়ের খাঁচায় বন্দি

যুদ্ধ যখন যন্ত্রের গতিতে, রাজনীতি কি তখনও মানুষের থাকবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সামরিক প্রতিযোগিতা এখন আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পনা নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে এটি ইতোমধ্যেই বাস্তব। ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্য নির্ধারণ, সাইবার প্রতিরক্ষা কিংবা যুদ্ধ পরিচালনার সফটওয়্যার—সব ক্ষেত্রেই এআই দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্নটি প্রযুক্তিগত নয়। আসল প্রশ্ন হলো, যুদ্ধ যদি যন্ত্রের গতিতে চলতে শুরু করে, তাহলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কি মানুষের হাতেই থাকবে?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি শুধু অস্ত্রকে শক্তিশালী করছে না, যুদ্ধের সময়-ধারণাকেও বদলে দিচ্ছে। আগে রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে কিছুটা সময় থাকত—পরিস্থিতি বোঝা, মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করা, সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করা কিংবা বিকল্প পথ নিয়ে ভাবার জন্য। এখন সেই সময় দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। সামরিক অ্যালগরিদম এমন গতিতে তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তের পরামর্শ দিতে পারে, যা মানুষের রাজনৈতিক বিচারক্ষমতার চেয়েও দ্রুত।

এখানেই বিপদ।

There is no better spur to military innovation than war

প্রযুক্তি যুদ্ধকে আরও দক্ষ করতে পারে, কিন্তু যুদ্ধকে কখনোই অরাজনৈতিক করতে পারে না। একটি অ্যালগরিদম হয়তো বলতে পারবে কোথায় আঘাত করলে সামরিক সাফল্য মিলবে, কিন্তু সেটি কখনো বলতে পারবে না সেই আঘাত রাজনৈতিকভাবে সঠিক কি না। কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যে একটি সামরিক জয় শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা আনবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের পথ খুলে দেবে।

এই বাস্তবতা নতুন নয়। উনিশ শতকের সামরিক চিন্তাবিদ কার্ল ফন ক্লজভিৎস বহু আগেই বলেছিলেন, যুদ্ধ হলো রাজনীতিরই অন্য রূপ। অনেকেই এই বাক্যকে কেবল কৌশলগত নীতিবাক্য হিসেবে দেখেন। কিন্তু এর গভীর অর্থ ছিল আরও বড়। ক্লজভিৎস বুঝেছিলেন, যুদ্ধ কখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত, যৌক্তিক বা পূর্বানুমেয় নয়। ভয়, বিভ্রান্তি, ভুল তথ্য, আবেগ, জাতীয়তাবাদ এবং মানবিক সীমাবদ্ধতা সবসময় যুদ্ধের অংশ।

আজকের এআই-নির্ভর যুদ্ধেও সেই সত্য বদলায়নি। বরং নতুন প্রযুক্তি পুরোনো অনিশ্চয়তাকে আরও জটিল করে তুলছে।

অনেকে মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুদ্ধের তথাকথিত “কুয়াশা” সরিয়ে দেবে। আরও বেশি তথ্য, আরও উন্নত স্যাটেলাইট, রিয়েল-টাইম নজরদারি এবং ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ নাকি সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করবে। কিন্তু বাস্তবে প্রযুক্তি নতুন ধরনের কুয়াশাও তৈরি করে। তথ্য অসম্পূর্ণ হতে পারে, অ্যালগরিদম ভুল শ্রেণিবিন্যাস করতে পারে, শত্রুপক্ষ সেন্সর বিভ্রান্ত করতে পারে, কিংবা মানুষ যন্ত্রের পরামর্শকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে পারে।

Russia maintains attacks on Ukraine, as Kyiv is warned to brace for a  possible major barrage | World | union-bulletin.com

ইউক্রেন যুদ্ধ এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করেছে। ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয় দেখিয়েছে যে প্রযুক্তি সংঘর্ষকে সহজ করে না; বরং যুদ্ধের ঘর্ষণকে নতুন জায়গায় সরিয়ে দেয়। যুদ্ধক্ষেত্র আরও সংযুক্ত হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে আরও অনিশ্চিতও হয়েছে।

এই পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামরিক শক্তির ধারণা বদলে যাওয়া। একসময় সামরিক ক্ষমতা মানে ছিল সেনাবাহিনী, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা ভূখণ্ড। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্যাটেলাইট, জ্বালানি সরবরাহ, এমনকি বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানিও। অর্থাৎ যুদ্ধের কেন্দ্র এখন শুধু সীমান্তে নয়; প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরেও।

এতে রাষ্ট্র ও করপোরেট শক্তির সীমারেখাও ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাতের হাতে তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যুদ্ধের রাজনৈতিক দায় শেষ পর্যন্ত কার?

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুদ্ধ যদি মানুষের অংশগ্রহণ কমিয়ে যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব হয়তো বলপ্রয়োগকে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল বলে ভাবতে শুরু করবে। ড্রোন হামলায় নিজ দেশের সৈন্য কম মরলে যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমতও তুলনামূলক দুর্বল হতে পারে। কিন্তু এতে যুদ্ধের মানবিক নিষ্ঠুরতা কমে যায় না। ইউক্রেন দেখিয়েছে, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি ও ট্রেঞ্চ—সবকিছু মিলিয়েই আধুনিক যুদ্ধ এখনও ভয়াবহ মানবিক দুর্ভোগ তৈরি করে।

এআই বন্ধ করার সুইচ নেই, সচেতন ব্যবহারই নিরাপদ পথ

সুতরাং এআইয়ের সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু এটি নয় যে অস্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। আসল বিপদ হলো, যুদ্ধকে হয়তো আগের চেয়ে বেশি “নিয়ন্ত্রণযোগ্য” বলে মনে হতে শুরু করবে। এই ভ্রমই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশ সামরিক ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের নীতিমালা তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অধিকাংশ উদ্যোগই বাধ্যতামূলক নয়। ফলে বাস্তব প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে—যখন একটি এআই-চালিত ব্যবস্থা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে, ভুল করবে বা এমন কিছু করবে যা রাজনৈতিক নেতৃত্ব পুরোপুরি বোঝে না, তখন দায় কার হবে?

এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ যুদ্ধের প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, যুদ্ধের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় শেষ পর্যন্ত মানুষেরই।

এআই যুদ্ধের গতি বদলাতে পারে। এটি যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্যমানতা বদলাতে পারে। সৈন্য, মেশিন ও বেসামরিক মানুষের সম্পর্কও বদলে দিতে পারে। কিন্তু এটি যুদ্ধের মৌলিক সত্য বদলাতে পারে না—যুদ্ধ সবসময় মানবিক উদ্দেশ্য, মানবিক কষ্ট এবং মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে জড়িত একটি রাজনৈতিক কাজ।

যদি যুদ্ধ যন্ত্রের গতিতে এগোয়, অথচ রাজনীতি চিন্তার গতি হারিয়ে ফেলে, তাহলে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বিপদ হয়তো যন্ত্রের অতিরিক্ত বুদ্ধিমত্তা হবে না। বরং হবে মানুষের রাজনৈতিক অমনোযোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ

যুদ্ধ যখন যন্ত্রের গতিতে, রাজনীতি কি তখনও মানুষের থাকবে

০৩:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সামরিক প্রতিযোগিতা এখন আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পনা নয়। যুদ্ধক্ষেত্রে এটি ইতোমধ্যেই বাস্তব। ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ, লক্ষ্য নির্ধারণ, সাইবার প্রতিরক্ষা কিংবা যুদ্ধ পরিচালনার সফটওয়্যার—সব ক্ষেত্রেই এআই দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্নটি প্রযুক্তিগত নয়। আসল প্রশ্ন হলো, যুদ্ধ যদি যন্ত্রের গতিতে চলতে শুরু করে, তাহলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কি মানুষের হাতেই থাকবে?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি শুধু অস্ত্রকে শক্তিশালী করছে না, যুদ্ধের সময়-ধারণাকেও বদলে দিচ্ছে। আগে রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে কিছুটা সময় থাকত—পরিস্থিতি বোঝা, মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করা, সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করা কিংবা বিকল্প পথ নিয়ে ভাবার জন্য। এখন সেই সময় দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। সামরিক অ্যালগরিদম এমন গতিতে তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্তের পরামর্শ দিতে পারে, যা মানুষের রাজনৈতিক বিচারক্ষমতার চেয়েও দ্রুত।

এখানেই বিপদ।

There is no better spur to military innovation than war

প্রযুক্তি যুদ্ধকে আরও দক্ষ করতে পারে, কিন্তু যুদ্ধকে কখনোই অরাজনৈতিক করতে পারে না। একটি অ্যালগরিদম হয়তো বলতে পারবে কোথায় আঘাত করলে সামরিক সাফল্য মিলবে, কিন্তু সেটি কখনো বলতে পারবে না সেই আঘাত রাজনৈতিকভাবে সঠিক কি না। কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যে একটি সামরিক জয় শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা আনবে, নাকি আরও বড় সংঘাতের পথ খুলে দেবে।

এই বাস্তবতা নতুন নয়। উনিশ শতকের সামরিক চিন্তাবিদ কার্ল ফন ক্লজভিৎস বহু আগেই বলেছিলেন, যুদ্ধ হলো রাজনীতিরই অন্য রূপ। অনেকেই এই বাক্যকে কেবল কৌশলগত নীতিবাক্য হিসেবে দেখেন। কিন্তু এর গভীর অর্থ ছিল আরও বড়। ক্লজভিৎস বুঝেছিলেন, যুদ্ধ কখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত, যৌক্তিক বা পূর্বানুমেয় নয়। ভয়, বিভ্রান্তি, ভুল তথ্য, আবেগ, জাতীয়তাবাদ এবং মানবিক সীমাবদ্ধতা সবসময় যুদ্ধের অংশ।

আজকের এআই-নির্ভর যুদ্ধেও সেই সত্য বদলায়নি। বরং নতুন প্রযুক্তি পুরোনো অনিশ্চয়তাকে আরও জটিল করে তুলছে।

অনেকে মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুদ্ধের তথাকথিত “কুয়াশা” সরিয়ে দেবে। আরও বেশি তথ্য, আরও উন্নত স্যাটেলাইট, রিয়েল-টাইম নজরদারি এবং ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বিশ্লেষণ নাকি সিদ্ধান্তকে আরও নির্ভুল করবে। কিন্তু বাস্তবে প্রযুক্তি নতুন ধরনের কুয়াশাও তৈরি করে। তথ্য অসম্পূর্ণ হতে পারে, অ্যালগরিদম ভুল শ্রেণিবিন্যাস করতে পারে, শত্রুপক্ষ সেন্সর বিভ্রান্ত করতে পারে, কিংবা মানুষ যন্ত্রের পরামর্শকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে পারে।

Russia maintains attacks on Ukraine, as Kyiv is warned to brace for a  possible major barrage | World | union-bulletin.com

ইউক্রেন যুদ্ধ এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করেছে। ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয় দেখিয়েছে যে প্রযুক্তি সংঘর্ষকে সহজ করে না; বরং যুদ্ধের ঘর্ষণকে নতুন জায়গায় সরিয়ে দেয়। যুদ্ধক্ষেত্র আরও সংযুক্ত হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে আরও অনিশ্চিতও হয়েছে।

এই পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামরিক শক্তির ধারণা বদলে যাওয়া। একসময় সামরিক ক্ষমতা মানে ছিল সেনাবাহিনী, ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা ভূখণ্ড। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেটা অবকাঠামো, সেমিকন্ডাক্টর, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্যাটেলাইট, জ্বালানি সরবরাহ, এমনকি বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানিও। অর্থাৎ যুদ্ধের কেন্দ্র এখন শুধু সীমান্তে নয়; প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরেও।

এতে রাষ্ট্র ও করপোরেট শক্তির সীমারেখাও ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাতের হাতে তৈরি হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যুদ্ধের রাজনৈতিক দায় শেষ পর্যন্ত কার?

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুদ্ধ যদি মানুষের অংশগ্রহণ কমিয়ে যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব হয়তো বলপ্রয়োগকে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল বলে ভাবতে শুরু করবে। ড্রোন হামলায় নিজ দেশের সৈন্য কম মরলে যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমতও তুলনামূলক দুর্বল হতে পারে। কিন্তু এতে যুদ্ধের মানবিক নিষ্ঠুরতা কমে যায় না। ইউক্রেন দেখিয়েছে, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি ও ট্রেঞ্চ—সবকিছু মিলিয়েই আধুনিক যুদ্ধ এখনও ভয়াবহ মানবিক দুর্ভোগ তৈরি করে।

এআই বন্ধ করার সুইচ নেই, সচেতন ব্যবহারই নিরাপদ পথ

সুতরাং এআইয়ের সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু এটি নয় যে অস্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। আসল বিপদ হলো, যুদ্ধকে হয়তো আগের চেয়ে বেশি “নিয়ন্ত্রণযোগ্য” বলে মনে হতে শুরু করবে। এই ভ্রমই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশ সামরিক ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের নীতিমালা তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত অধিকাংশ উদ্যোগই বাধ্যতামূলক নয়। ফলে বাস্তব প্রশ্নগুলো থেকেই যাচ্ছে—যখন একটি এআই-চালিত ব্যবস্থা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে, ভুল করবে বা এমন কিছু করবে যা রাজনৈতিক নেতৃত্ব পুরোপুরি বোঝে না, তখন দায় কার হবে?

এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ যুদ্ধের প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, যুদ্ধের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় শেষ পর্যন্ত মানুষেরই।

এআই যুদ্ধের গতি বদলাতে পারে। এটি যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্যমানতা বদলাতে পারে। সৈন্য, মেশিন ও বেসামরিক মানুষের সম্পর্কও বদলে দিতে পারে। কিন্তু এটি যুদ্ধের মৌলিক সত্য বদলাতে পারে না—যুদ্ধ সবসময় মানবিক উদ্দেশ্য, মানবিক কষ্ট এবং মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে জড়িত একটি রাজনৈতিক কাজ।

যদি যুদ্ধ যন্ত্রের গতিতে এগোয়, অথচ রাজনীতি চিন্তার গতি হারিয়ে ফেলে, তাহলে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় বিপদ হয়তো যন্ত্রের অতিরিক্ত বুদ্ধিমত্তা হবে না। বরং হবে মানুষের রাজনৈতিক অমনোযোগ।