গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে শত বছরের পুরোনো দুই ঐতিহাসিক জাহাজের সন্ধান মিলেছে। সমুদ্রের তলদেশে থাকা জাহাজ দুটির বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করেছেন গবেষকরা।
শত বছরের ইতিহাস ফিরে এলো সমুদ্রের নিচ থেকে
কানাডার উপকূলের কাছে ল্যাব্রাডর সাগরের ৩০০ মিটারেরও বেশি গভীরে খুঁজে পাওয়া গেছে অভিযাত্রী আর্নেস্ট শ্যাকলটনের শেষ ব্যবহৃত জাহাজ কুয়েস্টের ধ্বংসাবশেষ। এর কয়েক দিন পর একই অভিযানে রবার্ট ফ্যালকন স্কটের দক্ষিণ মেরু অভিযানের সঙ্গে যুক্ত জাহাজ টেরা নোভাকেও খুঁজে দেখা হয়।
গবেষকদের মতে, দুটি জাহাজই এখনো বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। সমুদ্রের গভীরে থাকা এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে সংরক্ষণ করতে তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র।
প্রযুক্তির সহায়তায় নতুন আবিষ্কার
গবেষকরা আধুনিক পানির নিচের চিত্র ধারণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাহাজগুলোর প্রতিটি অংশের ছবি সংগ্রহ করেছেন। পরে এসব ছবি একত্র করে তৈরি করা হয়েছে ভার্চুয়াল প্রতিরূপ, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে গবেষকরা জাহাজ দুটির অবস্থা আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া গবেষকরা মনে করছেন, এটি সমুদ্র অনুসন্ধানের নতুন যুগের সূচনা করছে। কারণ এখন প্রযুক্তির সাহায্যে এমন অনেক স্থান পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যেখানে আগে মানুষের পৌঁছানো কঠিন ছিল।
শ্যাকলটনের শেষ যাত্রার স্মৃতি
শ্যাকলটন ছিলেন মেরু অভিযানের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত নাম। ১৯১৪ সালে তার অভিযানের জাহাজ বরফের মধ্যে আটকে যায় এবং পরে ধ্বংস হয়ে যায়। তবে তিনি তার পুরো দলকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
১৯২২ সালে কুয়েস্ট জাহাজেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে জাহাজটি ১৯৬২ সালে ডুবে যায় এবং বহু বছর পর এর সন্ধান পাওয়া যায়।
স্কটের অসমাপ্ত দক্ষিণ মেরু অভিযান
টেরা নোভা ছিল কাঠের তৈরি তিন মাস্তুলের একটি জাহাজ। ১৯১০ সালে স্কট ও তার দল দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছানোর অভিযানে এটি ব্যবহার করেন।
স্কট ১৯১২ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছালেও দেখতে পান, নরওয়ের অভিযাত্রী রোয়াল আমুন্ডসেন তার আগেই সেখানে পৌঁছে গেছেন। ফেরার পথে স্কটসহ তার দলের সদস্যরা মারা যান। পরে টেরা নোভা আরও বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হওয়ার পর ১৯৪৩ সালে গ্রিনল্যান্ডের কাছে ডুবে যায়।

সমুদ্র গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা
গবেষকরা বলছেন, এই জাহাজগুলো শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এগুলো সমুদ্রের পরিবর্তন ও সামুদ্রিক জীবনের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। জাহাজের কাঠামোর ওপর প্রকৃতির প্রভাব এবং গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের বিশাল অংশ এখনো মানুষের অজানা। নতুন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও অনেক হারিয়ে যাওয়া নিদর্শন ও অজানা তথ্য সামনে আনতে পারে।
শ্যাকলটন ও স্কটের ঐতিহাসিক জাহাজের নতুন আবিষ্কার আবারও মনে করিয়ে দিল, সমুদ্রের গভীরে এখনো লুকিয়ে আছে বহু অজানা ইতিহাস।
শত বছরের পুরোনো শ্যাকলটন ও স্কটের জাহাজের ধ্বংসাবশেষ সমুদ্রের গভীর থেকে উদ্ধার হয়েছে। নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে বিস্তারিত ত্রিমাত্রিক ছবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















