দেশে হাম পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মৃতদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হামজনিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি নয়জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিনটি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে।
নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর হিসাব
এখন পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে মারা গেছে ৮৮ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬৭ জনে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্ত শিশুদের অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেই জটিল অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা এখন ৬৬ হাজার ২৩ জন।
এ ছাড়া একই সময়ে ৫৩ জনের শরীরে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর ফলে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৭৭২ জন।
হাসপাতালে চাপ এখনো বেশি
১৫ মার্চের পর থেকে মোট ৫২ হাজার ৫৩০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৮ হাজার ৮০০ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে টিকা না নেওয়ার প্রবণতা এবং দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়াই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আক্রান্তের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।
টিকাদান কর্মসূচিতে জোর
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশজুড়ে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন জেলার উপজেলাগুলোতেও বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, টিকাগ্রহণকারীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমে আসবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে নতুন রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















