মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম এক লাফে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, আর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
টানা তৃতীয় রাতের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার এবং ছোট নৌযান। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হামলার পর ইরানের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কয়েক ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর মিলেছে।
পাল্টা হামলায় উত্তেজনা বৃদ্ধি
ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী দুটি তেলবাহী সুপার ট্যাঙ্কারে আঘাত হানার দাবি করেছে তারা।
ইরানের দাবি, ওই জাহাজগুলো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল এবং তাদের নৌ-নির্দেশনা ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। অন্যদিকে একটি উপসাগরীয় দেশের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় একটি নাবিক আহত এবং আরও কয়েকজন ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিকে বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় আসা একাধিক আকাশ হামলা প্রতিহত করেছে বলে জানানো হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন বিরোধ
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রাখবে এবং এ জন্য পণ্য পরিবহনে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের প্রস্তাবও দিয়েছেন।
এর জবাবে ইরানের শীর্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদেরই এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যায়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও স্পষ্ট হয়েছে। একদিনেই অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। কয়েকটি দেশে সাময়িকভাবে কনস্যুলার সেবা সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছানোয় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত তীব্র হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম বেড়েছে, বাড়ছে বৈশ্বিক সংকটের শঙ্কা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















