বন্যা বা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তাহলে প্রয়োজন হলে তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। কোনো অবস্থাতেই তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না এবং সরকার সেটি হতে দেবে না।
বর্ষাজুড়ে কেন্দ্রগুলোর নিবিড় নজরদারি
শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্ষা মৌসুমজুড়ে দেশের সব এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিস্থিতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। কোথাও বন্যার পানি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করলে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত কেন্দ্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরীক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কুমিল্লা সরকারি কলেজেই সবচেয়ে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, কারণ কলেজটির মাঠ প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি কেন্দ্রে পানি ঢুকলেও দ্রুত বিকল্প স্থানে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার
ড. মিলন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যাতে পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে বন্যার কারণে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমস্যা তৈরি হওয়ার পর প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তাহলে সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজন হলে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করবে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এর আগে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও সেই সুযোগ রাখা হয়েছে।

পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তারা যেন পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেয়। সরকার দুর্যোগের মধ্যেও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের চেয়েও বেশি আন্তরিক ও উদ্বিগ্ন।
তিনি আরও বলেন, যেখানে কোনো ভুল বা প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, সেখানে পুনঃপরীক্ষার বিধান রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে কোনো পরীক্ষার্থী যেন তার ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর ওপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরীক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সর্বনিম্ন বিঘ্ন ঘটে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের আশ্বাস। প্রশাসনিক ত্রুটি বা দুর্যোগে কেউ বঞ্চিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















