চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, বন্যা পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেছেন, সরকারের এখনও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং সড়ক অবরোধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বন্যা পরিস্থিতির কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িক স্থগিতের দাবির প্রতিও সমর্থন জানান।
বন্যা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ
নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই ছাত্রদল শুরু থেকেই পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে।
সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান
তিনি বলেন, আগের সরকারের সময় সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার সংস্কৃতি থাকলেও ছাত্রদল বর্তমান সরকারকে প্রকাশ্যেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
নাসির জানান, সরকার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা করছে। শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর আশা, আলোচনার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে।
কঠিন প্রশ্নপত্র নিয়ে প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব
একটি প্রশ্নপত্র অস্বাভাবিক কঠিন হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, এটি একটি কারিগরি বিষয়। শিক্ষার্থীরা চাইলে প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারে এবং সেই প্রতিনিধিদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ করে দিতে ছাত্রদল সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য
শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাসির বলেন, পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির নয়। সরকার শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে এমন সিদ্ধান্তের ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের দিকই থাকতে পারে।

সড়ক অবরোধে নয়, আলোচনায় জোর
নাসির উদ্দীন নাসির পুনর্ব্যক্ত করেন, সড়ক অবরোধ করে সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং সরকার চাইলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এ কারণেই ছাত্রদল আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে।
তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রদল তাদের পাশে থাকবে।
ভিসি চত্বর থেকে বিজ্ঞান ল্যাব মোড়ে বিক্ষোভ
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের একটি দল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তিন দফা দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে মিছিল বের করে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরের কাছে পুলিশ তাদের বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ইয়ুথ, স্টার্টআপস অ্যান্ড দ্য বাংলাদেশ অব পসিবিলিটিজ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান অংশ নিচ্ছিলেন। এ কারণে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন ছিল।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরে যান। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করে অবস্থান করছিলেন।
সংলাপের আহ্বান জানিয়ে এইচএসসি আন্দোলন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ছাত্রদল। একই সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিতের দাবির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে সংগঠনটি।
এইচএসসি আন্দোলন
এইচএসসি, শিক্ষামন্ত্রী, ছাত্রদল, বন্যা, পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা, বাংলাদেশ, আন্দোলন, সায়েন্স ল্যাব
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















