রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। এরই মধ্যে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জাপানের উন্নত প্রযুক্তি বিভিন্ন উপায়ে রাশিয়ার হাতে পৌঁছাচ্ছে এবং তা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টোকিওকে ঘিরে নতুন অভিযোগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে সামরিক কাজে ব্যবহৃত প্রযুক্তি সংগ্রহে মস্কোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, জাপানের তুলনামূলক দুর্বল গুপ্তচরবিরোধী আইন এবং উন্নত প্রযুক্তি শিল্পকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া বিকল্প পথ তৈরি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি বিশেষ ইউনিট কূটনীতিক বা ব্যবসায়িক পরিচয়ে টোকিওতে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তি সংগ্রহ এবং তা রাশিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ক্ষেপণাস্ত্রে জাপানি প্রযুক্তির উপস্থিতির দাবি
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ব্যবহৃত বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে জাপানে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক উপাদান পাওয়া গেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করেও জাপানি প্রযুক্তির উপস্থিতির দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব উপাদান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ায় পণ্য সরবরাহের কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও জানিয়েছে, তারা জাপানের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলে।
আড়ালে প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগ
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, জাপান থেকে সরাসরি নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রযুক্তি রাশিয়ায় পৌঁছানোর পথ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈধ পণ্যের পাশাপাশি নিষিদ্ধ প্রযুক্তি পাচারের আশঙ্কার কথাও পশ্চিমা কর্মকর্তারা তুলে ধরেছেন।
একটি জাপানি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের নাম প্রতিবেদনে এলেও প্রতিষ্ঠানটি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা কেবল অনুমোদিত পণ্য পরিবহন করে এবং কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী রাশিয়ায় পাঠানোর সঙ্গে জড়িত নয়।

ইউক্রেনের একাধিক কূটনৈতিক সতর্কবার্তা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন গত বছর একাধিকবার জাপান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে। বিভিন্ন চিঠিতে রুশ অস্ত্রে পাওয়া জাপানি প্রযুক্তির তথ্য, ছবি এবং উপাদানের তালিকা তুলে ধরে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার আহ্বান জানানো হয়।
জাপানের অবস্থান কী?
জাপান শুরু থেকেই ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের সহায়তাও দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার জানিয়েছে, সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্য রাশিয়ায় রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আইনি কাঠামোর কারণে জাপানের গোয়েন্দা সক্ষমতা এখনও সীমিত। এই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক নজর
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর রাশিয়ার জন্য উন্নত প্রযুক্তির সরবরাহ শৃঙ্খল, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এবং জাপানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন ও তদন্তনির্ভর দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর একটি অংশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















