কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাতকে ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত হিসেবে পরিচিত এই আয়োজনে এবারও লাখো মুসল্লির সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ঈদের দিন সকাল ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
ঐতিহ্য আর ধর্মীয় গুরুত্বের কেন্দ্র
নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমির ওপর গড়ে ওঠা শোলাকিয়া ঈদগাহের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৮২৮ সালে স্থানীয় জমিদার ও মসনদ-ই-আলা ঈসা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হায়বত খান বাহাদুর এই ঈদগাহ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রথম জামাতে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি অংশ নেওয়ায় স্থানটির নাম হয়েছিল “সোয়া লাখি মাঠ”। সময়ের সঙ্গে সেই নাম পরিবর্তিত হয়ে এখনকার “শোলাকিয়া” নামটি পরিচিতি পায়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও বিদেশ থেকেও বহু মুসল্লি এখানে এসে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
মাঠজুড়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মাঠে ২৬৫টি কাতারের চিহ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। আগাছা পরিষ্কার, ছোট ছোট গর্ত ভরাটসহ পুরো মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন।
দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য আবাসন, খাবার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, চিকিৎসাসেবা, অজু ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করবেন।

বিশেষ ট্রেন চলবে ঈদের দিন
মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ঈদের দিন দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হচ্ছে। “শোলাকিয়া এক্সপ্রেস” নামে বিশেষ এই ট্রেন ভৈরব-কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে চলাচল করবে।
নিরাপত্তায় চার স্তরের ব্যবস্থা
ঈদের জামাতকে ঘিরে এবার নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
ঈদগাহে প্রবেশের আগে নির্ধারিত পয়েন্টে মুসল্লিদের তল্লাশি করা হবে। পুরো এলাকায় ৩২টি চেকপোস্ট, সাতটি আর্চওয়ে, ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর, ৬৪টি সিসি ক্যামেরা এবং চারটি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল প্রস্তুত থাকবে। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সদস্য ও স্নাইপার মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ঐতিহ্যের অংশ তিনবার বন্দুকের গুলি
শোলাকিয়া ঈদগাহের দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য হলো জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের গুলি ছোড়া। এটি মুসল্লিদের নামাজের প্রস্তুতির সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু বছর ধরে।
স্থানীয়রা বলছেন, শোলাকিয়া শুধু একটি ঈদগাহ নয়, এটি দেশের ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অনেকেই এই ঐতিহাসিক স্থানের সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















