মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ১.৩ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। আদালত সিদ্ধান্তে উল্লেখ করেছে, ১এমডিবি কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত থাকাকালে নাজিব তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং SRC ইন্টারন্যাশনালের জন্য নেওয়া ঋণটি দুর্নীতি করে ব্যবহার করেছেন। সারাক্ষণ রিপোর্ট
নাজিবের ক্ষমতার অপব্যবহার
আদালতের বিচারক আহমাদ ফাইরাস বলেন, ২০১১ সালে নাজিব প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে SRC ইন্টারন্যাশনালের জন্য ৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত ঋণ নিশ্চিত করেছিলেন। এই ঋণটি মালয়েশিয়ার বৃহত্তম পাবলিক সেক্টর অবসর ফান্ড KWAP-এর মাধ্যমে সরকারী গ্যারান্টি সহ নেওয়া হয়। নাজিবের নির্দেশে এই অর্থ সঠিক তদারকির অভাবে বিদেশে প্রেরণ করা হয়, যার ফলে প্রায় ১.১৮ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে ব্যবহৃত হয়।

আর্থিক কেলেঙ্কারির পরিণতি
SRC সংস্থা ২০১৫ সালে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অবসর ফান্ডকে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে সরকারকে ৬০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত উদ্ধার তহবিল দিতে হয়। আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ওপর SRC-এর দাবির অনুমোদন দেন এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা ১২০ মিলিয়ন ডলারও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের রায়ে দৃঢ় মন্তব্য
বিচারক ফাইরাস উল্লেখ করেন, “নাজিব কোম্পানির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি জনস্বার্থ বা SRC-এর বৈধ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য নয়, বরং একটি পরিকল্পিত কেলেঙ্কারির সুবিধার জন্য তার ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন।”
নাজিবের পূর্বের সাজা ও ভবিষ্যত পদক্ষেপ

নাজিব বর্তমানে SRC তহবিলের অনিয়মের জন্য ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার আইনজীবী মঙ্গলবারের সিভিল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং অর্থ প্রদানের স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেছেন, যা অনুমোদিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধার
মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ ১এমডিবি কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত সম্পদ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রাখছে। চারটি চিত্রকর্ম, যেগুলো ১এমডিবি থেকে অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে কেনা হয়েছে, এপ্রিল ৬ তারিখে মালয়েশিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে।
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের এই রায় বিশ্বব্যাপী ১এমডিবি কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে কার্যকর আদালতের পদক্ষেপের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















