ক্যালিফোর্নিয়ার এক আদালত মেটা ও গুগলের বিরুদ্ধে ইতিহাসঘাট রায় দিয়েছে, যা সামাজিক মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের সুরক্ষায় নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে। ২০ বছর বয়সী ক্যালি, যিনি ছয় বছর বয়স থেকে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার শুরু করেছিলেন, তার মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন। ক্যালির দাবি ছিল ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের অতিরিক্ত ব্যবহার তার শরীরের চেহারা নিয়ে নেতিবাচক অনুভূতি এবং আত্মহত্যার চিন্তার দিকে পরিচালিত করেছিল।
মার্চ ২৫ তারিখে ক্যালিফোর্নিয়ার জুরি ক্যালির পক্ষে রায় দেন এবং মেটা ও গুগলকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬ মিলিয়ন ডলার প্রদান করার নির্দেশ দেয়। যদিও এই অর্থ দুই কোম্পানির বার্ষিক আয়ের অল্প অংশ, তবে আইনি প্রভাব দৃষ্টিকোণ থেকে এর গুরুত্ব অসীম। ক্যালির আইনজীবীরা এই রায়ের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত করার দিক নির্দেশ করেছেন, যা পূর্বের প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়নি।

ক্যালির আইনজীবীরা মেটা ও গুগলকে শুধুমাত্র প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট থাকার কারণে নয়, বরং অ্যাপগুলির নকশা এবং বৈশিষ্ট্যসমূহের জন্যও দায়ী করেছেন। তারা জুরিদের দেখিয়েছেন, কিভাবে অটো-প্লে ভিডিও, ব্যক্তিগতকৃত সুপারিশ এবং অনন্ত ফিড শিশুদের আকর্ষণ করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এই রায় ভবিষ্যতে মেটা, গুগল এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের বিরুদ্ধে দায়ের করা সহস্রাধিক মামলা প্রভাবিত করতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞরা তুলনা করছেন এই মামলাটিকে অতীতের তামাক কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি রায়ের সঙ্গে, যা শিল্প নিয়ন্ত্রণে বিশাল পরিবর্তন এনেছিল।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে সামাজিক মাধ্যমের প্রতি নজরদারি বাড়ছে। ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় কমিশন টিকটককে ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট লঙ্ঘনের জন্য সতর্ক করেছে। শিশুরা যাতে অতিরিক্ত সময় না ব্যয় করে তা নিশ্চিত করার জন্য অ্যাপের নকশা পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচের শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং অন্যান্য দেশও অনুরূপ বিধান বিবেচনা করছে।
এই রায় কেবল ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য নয়, বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















