০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
স্পেনে ২০ মাসের লড়াইয়ের পর নারীকে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি — ইউরোপজুড়ে নতুন বিতর্ক ইউরোপের পুরনো বিদ্যুৎ গ্রিড পরিষ্কার শক্তির পথে বাধা — ইরান যুদ্ধে সংকট আরো জটিল পোপ লিও XIV-এর কড়া বার্তা: ধনীদের দায়িত্ব নিতে হবে, যুদ্ধ ঈশ্বরের ইচ্ছা নয় ভেনিসিয়ার শীর্ষ শিল্পমেলায় রাশিয়ার পুনরাবির্ভাব: বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার ছায়া হিলিয়াম সংকটের আশঙ্কা — ইরান যুদ্ধে চিপ শিল্প ও হাসপাতালে নতুন বিপদ আরব অঞ্চলে এক মাসের যুদ্ধে ১৮৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা জেপি মর্গানের ডিমন: ‘ইরান যুদ্ধ শেষ করা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে জরুরি কাজ’ উৎপাদন খরচ এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ — মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে চাপে বাংলাদেশের শিল্প খাত ইরাকে মার্কিন সাংবাদিক অপহৃত — ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া সন্দেহে অভিযান রাশিয়ায় ইন্টারনেট বন্ধ ও মেসেজিং অ্যাপ থ্রোটলড — বিরল প্রতিবাদের ডাক উঠছে

স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়, বাস্তবে সংকট: ক্যাম্পাস নেই, স্থায়ী শিক্ষক নেই, কমছে ছাত্রসংখ্যা

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন একসময় বড় আশা জাগিয়েছিল। বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলেও কয়েক বছর পর সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে। মাঠে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, বহু বিশ্ববিদ্যালয় এখনও অস্থায়ী জায়গায় চলছে, নেই স্থায়ী শিক্ষক, আর ক্রমেই কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

স্বপ্ন আর বাস্তবের ফারাক

কয়েক বছর আগে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার সময় লক্ষ্য ছিল রাজ্যের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি হয়নি, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জমি নির্ধারণ হলেও কাজ থমকে আছে।

Inside Bengal's 'Dream' Universities: Classes in Temporary Sheds, No  Regular Faculty, and Teachers Paid Just Rs 500 per class

অস্থায়ী ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এখনও ভাড়া করা বাড়ি, কলেজ ভবন বা স্কুলের কক্ষে ক্লাস পরিচালনা করছে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হতে হতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রশাসনিক কাজেও তৈরি হচ্ছে জটিলতা।

স্থায়ী শিক্ষকের অভাব

প্রায় সব নতুন বিশ্ববিদ্যালয়েই স্থায়ী শিক্ষক নেই বললেই চলে। অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে, যারা প্রতি ক্লাসে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পান। এর ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শিক্ষকরা নিজেরাও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারছেন না।

ছাত্রসংখ্যা কমছে উদ্বেগজনকভাবে

শুরুর বছরগুলোতে কিছুটা আগ্রহ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভর্তি কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। অবকাঠামোর অভাব, অনিশ্চয়তা এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিই এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

Inside Bengal's 'Dream' Universities: Classes in Temporary Sheds, No  Regular Faculty, and Teachers Paid Just Rs 500 per class

ক্যাম্পাস নির্মাণে থমকে থাকা কাজ

বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি নির্ধারণ করা হলেও সেখানে এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস গড়ে ওঠেনি। কোথাও শুধু ঘেরা দেওয়াল তৈরি হয়েছে, কোথাও আবার নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি বা মাঝপথে থেমে গেছে। অর্থ বরাদ্দের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পরিকল্পনার ধীরগতিকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক টানাপোড়েনের প্রভাব

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ আটকে যায়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তার প্রভাব এখনও কাটেনি।

Inside Bengal's 'Dream' Universities: Classes in Temporary Sheds, No  Regular Faculty, and Teachers Paid Just Rs 500 per class

কিছু ব্যতিক্রমও আছে

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র একই নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেখানে শিক্ষার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে উন্নত। তবে সেখানেও স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের ঘাটতি রয়ে গেছে।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে আরও সংকটে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পেনে ২০ মাসের লড়াইয়ের পর নারীকে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি — ইউরোপজুড়ে নতুন বিতর্ক

স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়, বাস্তবে সংকট: ক্যাম্পাস নেই, স্থায়ী শিক্ষক নেই, কমছে ছাত্রসংখ্যা

০৪:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন একসময় বড় আশা জাগিয়েছিল। বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলেও কয়েক বছর পর সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে। মাঠে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, বহু বিশ্ববিদ্যালয় এখনও অস্থায়ী জায়গায় চলছে, নেই স্থায়ী শিক্ষক, আর ক্রমেই কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

স্বপ্ন আর বাস্তবের ফারাক

কয়েক বছর আগে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার সময় লক্ষ্য ছিল রাজ্যের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি হয়নি, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে জমি নির্ধারণ হলেও কাজ থমকে আছে।

Inside Bengal's 'Dream' Universities: Classes in Temporary Sheds, No  Regular Faculty, and Teachers Paid Just Rs 500 per class

অস্থায়ী ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এখনও ভাড়া করা বাড়ি, কলেজ ভবন বা স্কুলের কক্ষে ক্লাস পরিচালনা করছে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত হতে হতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রশাসনিক কাজেও তৈরি হচ্ছে জটিলতা।

স্থায়ী শিক্ষকের অভাব

প্রায় সব নতুন বিশ্ববিদ্যালয়েই স্থায়ী শিক্ষক নেই বললেই চলে। অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে, যারা প্রতি ক্লাসে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পান। এর ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা এবং মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শিক্ষকরা নিজেরাও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারছেন না।

ছাত্রসংখ্যা কমছে উদ্বেগজনকভাবে

শুরুর বছরগুলোতে কিছুটা আগ্রহ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভর্তি কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। অবকাঠামোর অভাব, অনিশ্চয়তা এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিই এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

Inside Bengal's 'Dream' Universities: Classes in Temporary Sheds, No  Regular Faculty, and Teachers Paid Just Rs 500 per class

ক্যাম্পাস নির্মাণে থমকে থাকা কাজ

বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি নির্ধারণ করা হলেও সেখানে এখনো পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস গড়ে ওঠেনি। কোথাও শুধু ঘেরা দেওয়াল তৈরি হয়েছে, কোথাও আবার নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি বা মাঝপথে থেমে গেছে। অর্থ বরাদ্দের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পরিকল্পনার ধীরগতিকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক টানাপোড়েনের প্রভাব

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ আটকে যায়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তার প্রভাব এখনও কাটেনি।

Inside Bengal's 'Dream' Universities: Classes in Temporary Sheds, No  Regular Faculty, and Teachers Paid Just Rs 500 per class

কিছু ব্যতিক্রমও আছে

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র একই নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেখানে শিক্ষার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে উন্নত। তবে সেখানেও স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের ঘাটতি রয়ে গেছে।

সামনে কী চ্যালেঞ্জ

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদে আরও সংকটে পড়তে পারে।