মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে আরব অর্থনীতির ক্ষতি এক মাসেই প্রায় ১৮৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব আবদুল্লাহ আল দারদারি বৃহস্পতিবার জর্ডানের আমমানে সাংবাদিকদের বলেন, “যুদ্ধ যতদিন চলবে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব বাড়বে। আমরা আশা করি, আগামীকাল যুদ্ধ বন্ধ হবে।”
তিনি জানান, এক মাসের সংঘর্ষ আরব অঞ্চলের মোট জিডিপির প্রায় ছয় শতাংশ ক্ষতি করেছে। “এই হার মানে হলো এক মাসে অঞ্চলটি প্রায় ১৮৬ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে,” আল দারদারি উল্লেখ করেন।
অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য জরুরি
জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সুলতানি দেশগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাব ভুগছে। “উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬৮ বিলিয়ন ডলার, আর লেভান্ট অঞ্চলে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার,” তিনি জানান। তিনি হরমুজ প্রণালীতে অতিরিক্ত নির্ভরতার বিপদও তুলে ধরেন এবং বলেন, “এই সংকট প্রমাণ করেছে, আমাদের বিকল্প পথ খুঁজে বের করা জরুরি, কারণ যুদ্ধের আগে প্রায় বিশ্বব্যাপী তেলের পঞ্চমাংশ এবং তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালীর মাধ্যমে চলত।”

আল দারদারি আরও বলেন, “আরব অর্থনীতি মূলত একক পণ্যের উপর নির্ভরশীল। তেলের দেশগুলো নিজেই একমাত্র পণ্যের উপর নির্ভরশীল, আর তেল রপ্তানী নয় এমন দেশগুলো প্রবাসী আয় এবং সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, এই অর্থনৈতিক কাঠামো টেকসই নয়।”
চাকরি ও দরিদ্রতা প্রভাব
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, যুদ্ধে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন চাকরি হারানো যেতে পারে। “দরিদ্রতার প্রভাবও গভীর। এই সংঘর্ষের কারণে এ মাসে প্রায় চার মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যের সীমার নিচে পড়তে পারে বা ইতিমধ্যেই পড়েছে,” আল দারদারি বলেন।
নির্ধারক দিন আসছে
পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ বলেন, আগামী দিনগুলো যুদ্ধের দিক নির্ধারণ করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসেনা ব্যবহার নাকচ করেননি এবং বলেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনা শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি গত সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সৈন্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
এই সতর্কবার্তাগুলো আরব অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি জরুরি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















