০৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁওয়ে ট্রাক্টরের ধাক্কায় সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নবম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যু বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী হামলায় আতঙ্ক, ঘরবন্দি ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যাপক বন উজাড় হয়েছে’, মন্তব্য প্রতিমন্ত্রী টুকুর ওনাকে কিনে নিচ্ছে ওপেনএআই, এআই বাজারে নতুন সংযোজন ঢাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রান৪আর্থ ম্যারাথন, জলবায়ু সচেতনতার বার্তা ইনভিক্টাস গেমসের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছেন আহত সেনারা: প্রিন্স হ্যারির স্বপ্ন আরও বড় অলিম্পিক সোনা জয়ের পরও আলোচনায় অ্যালিসা লিউ, আনন্দেই খুঁজে পেলেন সাফল্যের নতুন অর্থ মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে কার্টেল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় গুলিতে মেয়রের মৃত্যু ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ আটক করল ব্রিটিশ বাহিনী

অলিম্পিক সোনা জয়ের পরও আলোচনায় অ্যালিসা লিউ, আনন্দেই খুঁজে পেলেন সাফল্যের নতুন অর্থ

ফিগার স্কেটিংয়ের জগতে অ্যালিসা লিউকে আলাদা করে চেনার সবচেয়ে বড় কারণ তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি। প্রতিযোগিতার কঠোর চাপের মধ্যেও হাসিমুখে বরফে নেমে নিজের শিল্পকে উপভোগ করার মানসিকতা তাঁকে ভক্তদের কাছে বিশেষ করে তুলেছে। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি অলিম্পিক সোনা জিতে বিশ্বের নজর কাড়লেও তাঁর যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না।

অল্প বয়সেই ইতিহাস গড়া

মাত্র ১৩ বছর বয়সে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন অ্যালিসা। কিন্তু সেই সাফল্যই তাঁর কাঁধে বাড়তি প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেয়। প্রতিটি ভুল তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিত। প্রথম স্থান না পেলে হতাশা গ্রাস করত তাঁকে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ভয় ধীরে ধীরে তাঁর আনন্দ কেড়ে নেয়।

করোনা মহামারির সময় নিয়মিত অনুশীলন বন্ধ হয়ে গেলে তিনি প্রথমবারের মতো নিজের অনুভূতির মুখোমুখি হন। তখনই বুঝতে পারেন, তিনি আর আগের মতো স্কেটিং উপভোগ করছেন না। তবে দীর্ঘদিনের পরিচিত এই জগত ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথও তাঁর কাছে স্পষ্ট ছিল না।

বরফ ছেড়ে নতুন জীবনের পথে

২০২২ সালের বেইজিং অলিম্পিকে ষষ্ঠ হওয়ার পর অ্যালিসা সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আপাতত স্কেটিং থেকে সরে দাঁড়াবেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেই সময় তিনি স্কেটিংকে একদমই মিস করেননি।

কিন্তু জীবন আবারও তাঁকে ফিরিয়ে আনে পুরোনো ভালোবাসার কাছে। একসময় পাহাড়ে স্কি করতে গিয়ে গতির যে রোমাঞ্চ তিনি অনুভব করেন, সেটিই তাঁকে আবার বরফের মঞ্চের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই অনুভূতিকে ফিরে পেতেই তিনি স্কেটিংয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

Alysa Liu explains how skating with joy led to Olympic gold for US: 'There’s no way to lose'

নিজের শর্তে ফিরে আসা

তবে দ্বিতীয়বারের এই প্রত্যাবর্তন ছিল একেবারেই ভিন্ন। এবার তিনি নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছেন। প্রশিক্ষণের সময়সূচি, সংগীত নির্বাচন কিংবা পরিবেশনার ধরন—সবকিছুতেই নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

এই স্বাধীনতাই তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দেয়। স্কেটিং আবারও তাঁর কাছে আনন্দ, সৃজনশীলতা এবং আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে। সেই পরিবর্তনের ফলও আসে দ্রুত। মিলান-কোর্তিনা অলিম্পিকে তিনি দলগত ও ব্যক্তিগত—দুই বিভাগেই শীর্ষ সাফল্য অর্জন করেন।

খেলার বাইরেও নতুন পরিচয়

অলিম্পিক সাফল্যের পরও অ্যালিসা নিজেকে শুধু একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেখতে চান না। তিনি নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবে ভাবতে ভালোবাসেন, যার ক্যানভাস হলো বরফের মঞ্চ। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ফ্যাশন জগতেও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং বিভিন্ন আলোচিত আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।

তবে জনপ্রিয়তার মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা কিছুটা ভিন্ন। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্পকর্মের পরিচয় অনেক সময় শিল্পীর পরিচয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠতে পারে। তাই কখনও কখনও তিনি চান মানুষ তাঁর নামের চেয়ে তাঁর পরিবেশনাকেই বেশি মনে রাখুক।

অ্যালিসা লিউর গল্প শুধু একটি সোনার পদক জয়ের গল্প নয়। এটি নিজের আনন্দকে পুনরুদ্ধার করার, চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং নিজের শর্তে সাফল্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আগেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ

অলিম্পিক সোনা জয়ের পরও আলোচনায় অ্যালিসা লিউ, আনন্দেই খুঁজে পেলেন সাফল্যের নতুন অর্থ

০৭:১৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ফিগার স্কেটিংয়ের জগতে অ্যালিসা লিউকে আলাদা করে চেনার সবচেয়ে বড় কারণ তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি। প্রতিযোগিতার কঠোর চাপের মধ্যেও হাসিমুখে বরফে নেমে নিজের শিল্পকে উপভোগ করার মানসিকতা তাঁকে ভক্তদের কাছে বিশেষ করে তুলেছে। মাত্র ২০ বছর বয়সেই তিনি অলিম্পিক সোনা জিতে বিশ্বের নজর কাড়লেও তাঁর যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না।

অল্প বয়সেই ইতিহাস গড়া

মাত্র ১৩ বছর বয়সে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন অ্যালিসা। কিন্তু সেই সাফল্যই তাঁর কাঁধে বাড়তি প্রত্যাশার বোঝা চাপিয়ে দেয়। প্রতিটি ভুল তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিত। প্রথম স্থান না পেলে হতাশা গ্রাস করত তাঁকে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার ভয় ধীরে ধীরে তাঁর আনন্দ কেড়ে নেয়।

করোনা মহামারির সময় নিয়মিত অনুশীলন বন্ধ হয়ে গেলে তিনি প্রথমবারের মতো নিজের অনুভূতির মুখোমুখি হন। তখনই বুঝতে পারেন, তিনি আর আগের মতো স্কেটিং উপভোগ করছেন না। তবে দীর্ঘদিনের পরিচিত এই জগত ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথও তাঁর কাছে স্পষ্ট ছিল না।

বরফ ছেড়ে নতুন জীবনের পথে

২০২২ সালের বেইজিং অলিম্পিকে ষষ্ঠ হওয়ার পর অ্যালিসা সিদ্ধান্ত নেন, তিনি আপাতত স্কেটিং থেকে সরে দাঁড়াবেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেই সময় তিনি স্কেটিংকে একদমই মিস করেননি।

কিন্তু জীবন আবারও তাঁকে ফিরিয়ে আনে পুরোনো ভালোবাসার কাছে। একসময় পাহাড়ে স্কি করতে গিয়ে গতির যে রোমাঞ্চ তিনি অনুভব করেন, সেটিই তাঁকে আবার বরফের মঞ্চের কথা মনে করিয়ে দেয়। সেই অনুভূতিকে ফিরে পেতেই তিনি স্কেটিংয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

Alysa Liu explains how skating with joy led to Olympic gold for US: 'There’s no way to lose'

নিজের শর্তে ফিরে আসা

তবে দ্বিতীয়বারের এই প্রত্যাবর্তন ছিল একেবারেই ভিন্ন। এবার তিনি নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছেন। প্রশিক্ষণের সময়সূচি, সংগীত নির্বাচন কিংবা পরিবেশনার ধরন—সবকিছুতেই নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

এই স্বাধীনতাই তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস দেয়। স্কেটিং আবারও তাঁর কাছে আনন্দ, সৃজনশীলতা এবং আত্মপ্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে। সেই পরিবর্তনের ফলও আসে দ্রুত। মিলান-কোর্তিনা অলিম্পিকে তিনি দলগত ও ব্যক্তিগত—দুই বিভাগেই শীর্ষ সাফল্য অর্জন করেন।

খেলার বাইরেও নতুন পরিচয়

অলিম্পিক সাফল্যের পরও অ্যালিসা নিজেকে শুধু একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে দেখতে চান না। তিনি নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবে ভাবতে ভালোবাসেন, যার ক্যানভাস হলো বরফের মঞ্চ। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ফ্যাশন জগতেও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং বিভিন্ন আলোচিত আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।

তবে জনপ্রিয়তার মধ্যেও তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা কিছুটা ভিন্ন। তিনি বিশ্বাস করেন, শিল্পকর্মের পরিচয় অনেক সময় শিল্পীর পরিচয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠতে পারে। তাই কখনও কখনও তিনি চান মানুষ তাঁর নামের চেয়ে তাঁর পরিবেশনাকেই বেশি মনে রাখুক।

অ্যালিসা লিউর গল্প শুধু একটি সোনার পদক জয়ের গল্প নয়। এটি নিজের আনন্দকে পুনরুদ্ধার করার, চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং নিজের শর্তে সাফল্যকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।