পাকিস্তানে প্রস্তাবিত দেশব্যাপী ‘স্মার্ট লকডাউন’ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রদেশগুলোর আপত্তিতে থমকে গেল পরিকল্পনা
বৈঠকে প্রাদেশিক সরকারগুলো একযোগে জাতীয় পর্যায়ে একক লকডাউন ব্যবস্থা চালুর বিরোধিতা করে। তাদের যুক্তি ছিল, প্রতিটি অঞ্চলের পরিস্থিতি ভিন্ন, তাই এক ধরনের নীতিমালা সবার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না। এই মতপার্থক্যের কারণেই ‘স্মার্ট লকডাউন’ প্রস্তাবটি আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কেন্দ্র।
কৃচ্ছ্রসাধন ও জ্বালানি সাশ্রয়ে জোর
লকডাউনের পরিবর্তে এখন সরকারের প্রধান নজর পড়েছে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি জোরদার করা এবং জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করার দিকে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা ব্যয় সংকোচন কার্যক্রম আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার বিষয়েও ঐকমত্য গড়ে ওঠে।
.jpeg)
আর্থিক চাপ ভাগাভাগির আহ্বান
কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশগুলোকে ২৫৪ বিলিয়ন রুপির একটি ত্রাণ প্যাকেজের বোঝা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছে সরকার। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে লকডাউন প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার জন্য প্রাদেশিক অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সামনে কী
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান এখন এক জটিল অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কঠোর পদক্ষেপ ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের এই নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















