ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এই সংকীর্ণ সড়ক দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস সতর্ক করেছেন, এই পথ দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হবে। সাম্প্রতিক হামলার ফলে গলফ অঞ্চলের বন্দর ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে।
মার্চে হামলার ঘটনা
১ মার্চ: মার্শাল আইল্যান্ডসের ক্রুড ট্যাঙ্কার MKD VYOM-এ প্রজেক্টাইল আঘাতে একজন নাবিক নিহত। জিব্রাল্টার-নিবন্ধিত Hercules Star ও পалау-নিবন্ধিত Skylight ট্যাঙ্কারও হামলার শিকার হয়।
২ মার্চ: মার্কিন পতাকাবাহী Stena Imperative-এ দুটি প্রজেক্টাইলের আঘাত, অগ্নিকাণ্ড এবং নাবিকদের জরুরি উদ্ধার।

৩ মার্চ: মার্শাল আইল্যান্ডসের Libra Trader ও পানামার Gold Oak-এ সামান্য ক্ষতি।
৪ মার্চ: মাল্টিজ-নিবন্ধিত Safeen Prestige-এ প্রজেক্টাইল আঘাত, ইঞ্জিনরুমে আগুন, নাবিকদের তাড়া।
৫ মার্চ: ইরাকি বন্দরে Sonangol Namibe ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ইরানি রিমোট কন্ট্রোল বোটের হামলা।
৬–৭ মার্চ: Safeen Prestige-এর সঙ্গে সম্পর্কিত টাগবোট এবং সম্ভাব্য ড্রোন হামলার ঘটনা।
১১ মার্চ: থাইল্যান্ড-নিবন্ধিত Mayuree Naree-এ প্রজেক্টাইল আঘাত, আগুন, নাবিকদের উদ্ধার। জাপানি One Majesty এবং মার্শাল আইল্যান্ডসের Star Gwyneth-এ সামান্য ক্ষতি। ফুয়েজারাহ ও ইরাকের নিকট Fuel ট্যাঙ্কারও হামলার শিকার।
১২ মার্চ: জার্মান Hapag-Lloyd-এর Liberia-নিবন্ধিত Source Blessing-এ আগুন লাগলেও নাবিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

১৭–৩০ মার্চ: কুয়েতের Al Salmi ট্যাঙ্কারসহ একাধিক জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত, সামান্য ক্ষতি থেকে বড় অগ্নিকাণ্ড পর্যন্ত ঘটনা। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস একে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজকে লক্ষ্য করা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব
হরমুজে হামলার ফলে গলফ অঞ্চলের তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বন্দর বন্ধ বা সীমিত কার্যক্রমের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ চেইনে চাপ বাড়ছে। বিশেষত ক্রুড তেল, LPG ও কন্টেইনার পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















