ইরান যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে এসে নতুন বার্তা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই ইরান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে, তবে প্রয়োজন হলে আবারও লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ফিরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যুদ্ধ থামানোর পাশাপাশি কৌশলগত উপস্থিতি বজায় রাখার পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন।
দ্রুত প্রস্থান, তবে নজরদারি অব্যাহত
ট্রাম্প বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই ইরান ছাড়বে। তবে পুরোপুরি সরে যাওয়া মানে সম্পর্কের ইতি নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী আবারও হামলা চালানো হতে পারে এবং স্যাটেলাইট নজরদারির মাধ্যমে ইরানের ওপর কঠোর নজর রাখা হবে।

ন্যাটো নিয়ে অসন্তোষ, জোট ছাড়ার ইঙ্গিত
ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে তেল পরিবহন নিরাপত্তায় সহায়তা না পাওয়ায় তিনি ন্যাটোর কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র জোটটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন বলে জানান।
নেতৃত্ব বদল ও চুক্তির সম্ভাবনা
যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এ কারণে একটি নতুন চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, ইরান আর পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম নয় এবং তারা তা চায়ও না।
যুদ্ধের প্রভাব: প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক চাপ
এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও জনমত দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে ঝুঁকছে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক
যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এখনও মজুত রয়েছে, ট্রাম্প এটিকে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন না। তার দাবি, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।
পর্দার আড়ালে আলোচনা
একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে গোপন আলোচনার কথাও উঠে এসেছে। যদিও তেহরান তা অস্বীকার করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধবিরতির পথ খোলা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















