মহাকাশ প্রযুক্তিতে নেতৃত্বদানকারী কোম্পানি স্পেসএক্স গোপনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি শুরু করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই আইপিও সফল হলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজার তালিকাভুক্তি হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারে।
মহাকাশ ব্যবসা থেকে শেয়ারবাজারে
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের নেতৃত্বে পরিচালিত স্পেসএক্স ইতিমধ্যেই মহাকাশে সবচেয়ে বেশি রকেট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। চাঁদে মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলা এই প্রতিষ্ঠান এবার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য দরজা খুলতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য এই তালিকাভুক্তির মূল্যায়ন দাঁড়াতে পারে প্রায় ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে সক্ষম।

স্টারলিংকই মূল চালিকাশক্তি
স্পেসএক্সের বিশাল মূল্যায়নের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে তাদের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক। বর্তমানে প্রায় ৯০ লাখ গ্রাহক নিয়ে এই সেবা বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতেও এর ব্যবহার বাড়ছে, যা নিয়মিত আয়ের একটি শক্তিশালী উৎস তৈরি করেছে।
বিশাল আইপিওর সম্ভাবনা
ধারণা করা হচ্ছে, এই আইপিও থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হতে পারে। এর ফলে পূর্বের সবচেয়ে বড় তালিকাভুক্তির রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাবে। দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির থাকা শেয়ারবাজারে এটি নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মাস্কের সাম্রাজ্যের প্রভাব

এই তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ইলন মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য আরও গভীরভাবে বিনিয়োগকারীদের নজরে আসবে। তার অধীনে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সংযোগ নতুনভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি করবে। তবে একাধিক বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানোর বিষয়টি নিয়ে কিছু বিনিয়োগকারীর মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।
মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নতুন গতি
এই পদক্ষেপ এমন সময়ে আসছে যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মহাকাশ প্রতিযোগিতায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। স্পেসএক্স ইতিমধ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডেটা সেন্টার মহাকাশে স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি অবকাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইপিও সফল হলে অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত করবে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















