যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জোরালো সংশয় দেখা দিয়েছে। বিচারপতিরা শুনানিতে প্রশাসনের যুক্তিকে ঘিরে একের পর এক কঠিন প্রশ্ন তোলেন, যা এই নীতির আইনগত ভিত্তি কতটা টেকসই—তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
আদালতে নজিরবিহীন উপস্থিতি
এই শুনানিতে নিজে উপস্থিত থেকে ইতিহাস গড়েন ট্রাম্প। তিনি আদালতের দর্শকসারিতে বসে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, যদিও কিছুক্ষণ পরই শুনানি শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। বিচারপতিদের সামনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পরপরই তার এই প্রস্থান ঘটে।
কী বলছে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রশাসনের আইনজীবীরা দাবি করেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেয় না। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এই নীতি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে এবং আইন ভঙ্গকারীদের সুবিধা দেয়। তারা যুক্তি দেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ যথেষ্ট নয়, বরং দেশের প্রতি স্থায়ী আনুগত্য থাকা জরুরি।
বিচারপতিদের প্রশ্নে চাপে প্রশাসন
শুনানিতে রক্ষণশীল ও উদারপন্থী—উভয় ধরনের বিচারপতিরাই প্রশাসনের ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, প্রশাসনের যুক্তি বাস্তব উদাহরণের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত। তিনি জানতে চান, সীমিত কিছু ব্যতিক্রমকে কীভাবে এত বড় একটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়।
একইসঙ্গে বিচারপতিরা জানতে চান, জন্ম পর্যটন বা বিদেশিদের সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসার ঘটনা কতটা বাস্তব সমস্যা। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান দিতে পারেননি প্রশাসনের আইনজীবীরা।
সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী ঘিরে বিতর্ক

এই মামলার কেন্দ্রবিন্দু যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী, যেখানে বলা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সবাই নাগরিক। বহু বছর ধরে এই বিধান খুব সীমিত কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কার্যকর রয়েছে।
প্রশাসন বলছে, “আইনের আওতায় থাকা” শব্দগুচ্ছের অর্থ হলো—শুধু জন্ম নয়, বরং আইনি অবস্থানও বিবেচ্য। কিন্তু বিচারপতিদের অনেকেই এই ব্যাখ্যাকে অস্পষ্ট ও দুর্বল বলে মনে করেন।
বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
বিচারপতিরা আরও প্রশ্ন তোলেন, এই নীতি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে। নবজাতকের বাবা-মায়ের আইনি অবস্থান, থাকার ইচ্ছা বা পরিচয় কীভাবে নির্ধারণ করা হবে—তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয়ই জানা যায় না—সেসব পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব
যদি সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়, তবে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া লাখো শিশুর নাগরিকত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে অসংখ্য পরিবারকে তাদের সন্তানের নাগরিকত্ব প্রমাণে অতিরিক্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
আদালতের চূড়ান্ত রায় জুনের মধ্যে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















