শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিন্নতার কারণে সাধারণ সর্দি অনেকের জন্য হালকা হলেও অ্যাজমা ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) আক্রান্তদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, ভাইরাস নয়, বরং মানুষের ইমিউন সিস্টেমের প্রতিক্রিয়ার পার্থক্যই সমস্যা তৈরি করে।
হালকা সর্দি এবং প্রাণঘাতী সংক্রমণের পার্থক্য
বর্তমান বিজ্ঞান জানায়, রাইনোভাইরাসের ১৭০টির বেশি প্রজাতি বিদ্যমান। অধিকাংশ মানুষের জন্য এগুলো স্রেফ সর্দি-কাশির কারণ হয়, কিন্তু যারা অ্যাজমা বা সিওপিডিতে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে একই ভাইরাস মারাত্মক উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্লিনিশিয়ান সায়েন্টিস্ট আরান সিংগানায়গম জানান, একই ভাইরাস স্বাস্থ্যবান ও সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

নাসার টিস্যুতে গবেষণার ফলাফল
গবেষকরা ডিশে নাসার টিস্যু জন্মিয়ে সেখানে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটিয়ে দেখেছেন, প্রথম সারির প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হলে সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ইয়েলের ইমিউনোবায়োলজি বিশেষজ্ঞ এলেন ফক্সম্যান বলেন, সাধারণ সর্দিতে মাত্র ১% কোষ আক্রান্ত হয়, কিন্তু আক্রান্ত কোষের ইন্টারফেরন সংকেত বাকি কোষকে সতর্ক করে, ফলে ভাইরাস ছড়ায় না।
ইন্টারফেরন সংকেত বিলম্বিত হলে উপসর্গ বৃদ্ধি
ফক্সম্যান জানান, যদি এই সংকেত সময়মতো না পৌঁছায়, কোষ অতিরিক্ত মিউকাস উৎপাদন শুরু করে এবং প্রদাহজনক সিগন্যাল তৈরি করে। এটি ঠিক সেই প্রক্রিয়া যা অ্যাজমা বা সিওপিডি আক্রান্তদের তীব্র শ্বাসকষ্ট ও কাশি সৃষ্টি করে। নাথান বার্টলেট বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহে কোষগুলোকে সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ায় ভাইরাসের প্রভাব আরও বাড়ে।
গবেষণার এই ফলাফল প্রমাণ করে, সাধারণ সর্দির তুলনায় গুরুতর উপসর্গের মূল কারণ হলো ব্যক্তির ইমিউন প্রতিক্রিয়ার সময় এবং কার্যকারিতা, ভাইরাসের ধরন নয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















