জ্বালানি ও কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে বাংলাদেশের পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প বড় সংকটে পড়েছে। তুলা, সুতা ও সিনথেটিক ফাইবারসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রপ্তানির লাভের মার্জিন সংকুচিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহের ব্যাঘাত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলছে। তুলা, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বাড়ছে, জাহাজ বিলম্ব ও শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন আরও ব্যাহত হচ্ছে।
ডেনিম পণ্যের জন্য ব্যবহৃত ওপেন‑এন্ড সুতা পাউন্ডপ্রতি ২.৫০ ডলার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে আগে তা ছিল ১.৮০ ডলার।

শিপিং ও জ্বালানি খরচে চাপ
মালবহন খরচের ওপর অতিরিক্ত চার্জের কারণে প্রতিটি কন্টেইনার শিপমেন্টে খরচ কয়েকশো থেকে হাজার ডলারের বেশি বেড়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার প্রবাহও বিঘ্নিত হওয়ায় উৎপাদন ও ডেলিভারি সময়সীমা বাড়ছে।
রপ্তানি মার্জিন সংকুচিত
তুলা ও সিনথেটিক ফাইবারের দাম ক্রমেই বাড়ছে। পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও অন্যান্য সিনথেটিক উপাদানের দামের ওঠানামা উৎপাদনের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। ব্লেন্ডেড ফ্যাব্রিকের কাঁচামালের মধ্যে জ্বালানি‑ভিত্তিক উপাদান প্রায় ৪০‑৫০ শতাংশ, যার দাম বেড়ে উৎপাদন খরচ প্রতি গার্মেন্টে ১৯‑২০ সেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ডিজেল সংকট ও উৎপাদন ব্যাঘাত
ডিজেলের ঘাটতি মিলগুলোতে ব্যাকআপ জেনারেটর চালানো কঠিন করছে। লোডশেডিং ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হচ্ছে।

রপ্তানির চাপ ও পরিসংখ্যান
মার্চ ২০২৬‑এ মোট রপ্তানি আয় প্রায় ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, বিশেষ করে পোশাক খাতের রপ্তানি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। বড়‑স্কেল উৎপাদন ক্ষেত্রও প্রায় ৬.৩৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
সরকারি সমর্থন ও আহ্বান
শিল্প নেতারা সরকার ও নীতি নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করতে এবং শিপিং ব্যবস্থার সমাধান করতে, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা ধরে রাখা যায়।
সারাক্ষণ রিপোর্টে বিশ্লেষকরা মনে করেন: জ্বালানি ও কাঁচামালের ক্রমবর্ধমান খরচ বাংলাদেশের পোশাক খাতকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যা না সামালে দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















