বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি বা মুদ্রানীতির বিষয় নয়। মূল কারণ হলো সরবরাহ‑শৃঙ্খলের জটিলতা, বাজার কাঠামোর একাধিপত্য, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব। খাদ্য, তেল ও অন্যান্য প্রধান পণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
সরবরাহ‑শৃঙ্খল ব্যর্থতা ও রেন্ট‑সিকিং
বাংলাদেশে পণ্য যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও দাম কেন কমছে না? সমস্যা মূলত সরবরাহ‑শৃঙ্খল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে। উৎপাদন থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত অসংলগ্নতা, স্টোরেজ সমস্যা এবং সিন্ডিকেটজাত একাধিপত্যমূলক কৌশল দাম বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া দুর্নীতি, শোষণ এবং রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজি বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমাবদ্ধতা
মুদ্রানীতি বা সুদের হার বাড়ানো মূলত অর্থনীতির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সরবরাহ‑শৃঙ্খল ও বাজার কাঠামোর সমস্যা সমাধান না হলে এটি দাম কমাতে সীমিত ভূমিকা রাখে। বরং পরিবহন ও বিতরণ ব্যয় বেড়ে মূল্য বৃদ্ধি আরও বাড়াতে পারে।
খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি: মূল চালক
খাদ্য মূল্যবৃদ্ধিই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ। বিশেষত চাল, পেঁয়াজ, তেল ও অন্যান্য প্রধান খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য। সুস্পষ্ট নীতি ও কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় ছাড়া কোনো আর্থিক বা মুদ্রানীতি কার্যকর হবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















