ভারতের শিশুদের মৃত্যুর মধ্যে ক্যান্সার দশম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, এমনই তথ্য প্রকাশ করেছে গ্লোবাল বারডেন অফ ডিজিজ (GBD) ২০২৩-এর গবেষণা। বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্যান্সার অষ্টম প্রধান কারণ, যা ঘরে বসে সংক্রমণ, টিউবারকুলোসিস ও এইচআইভি/এডসের চেয়েও বেশি। গবেষণায় বলা হয়েছে, শিশু ক্যান্সারের ফলাফল মূলত সম্পদের প্রাপ্যতা ও চিকিৎসার গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে।
২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার নতুন শিশু ক্যান্সারের ঘটনা এবং প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যদিও ১৯৯০ সাল থেকে নতুন কেসের সংখ্যা স্থিতিশীল, মৃত্যু হার ২৭ শতাংশ কমেছে। তবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। এ দেশগুলোতে ২০২৩ সালে নতুন কেসের ৮৫ শতাংশ, মৃত্যুর ৯৪ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধকতা-সংশোধিত জীবন বছরও ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
![]()
দক্ষিণ এশিয়ারই প্রায় ২০.৫ শতাংশ বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ী। ভারতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ১৭ হাজার শিশু ক্যান্সারে মারা গেছে। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে লিউকেমিয়া, মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ক্যান্সার এবং নন-হজকিন লিম্ফোমা।
চেন্নাইয়ের ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, অ্যাডিয়ারের মেডিকেল অনকোলজি প্রফেসর ডঃ ভেঙ্কটরমন রাধাকৃষ্ণন বলেন, “তথ্যগুলো উদ্বেগজনক। ভারতের জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনায় শিশু ক্যান্সার অন্তর্ভুক্ত নয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বেশিরভাগ মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। শিশু ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা, প্রাথমিক নির্ণয়, অপরিহার্য চিকিৎসা, শক্তিশালী সহায়ক সেবা এবং কার্যকর ক্যান্সার রেজিস্ট্রি অপরিহার্য।”
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, শিশু ক্যান্সারের ওপর তথ্য সংগ্রহ নীতিমালা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিশ্বের সব দেশে পর্যবেক্ষণভিত্তিক শিশু ক্যান্সারের তথ্য পাওয়া যায় না। আগে করা বিশ্বব্যাপী হিসাবেও কিছু সাধারণ শিশু ক্যান্সার আলাদাভাবে রিপোর্ট করা হয়নি। লিসা ফোর্স, ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের প্রধান লেখক বলেন, “নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে শিশু ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি রয়েছে। বিলম্বিত নির্ণয়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ক্যান্সারের প্রভাবকে আরও বাড়ায়।”
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















