সরকারি বিবৃতির বাইরের সত্য
আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সংস্থা বেলিংক্যাট একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে দেখানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের বেশ কয়েকটি হামলার বিষয়টি সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি বা ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওপেন সোর্স ডেটা ব্যবহার করে বেলিংক্যাট দেখিয়েছে, প্রকৃত পরিস্থিতি সরকারি বিবৃতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর।
ফুজাইরাহতে তিনটি ট্যাংক ধ্বংস
বেলিংক্যাটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুজাইরাহ আমিরাতের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ইরানের ড্রোন হামলায় তিনটি ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে এই ক্ষতি স্পষ্ট দেখা গেছে। কিন্তু ফুজাইরাহর মিডিয়া অফিস বলেছে, ধ্বংসাবশেষ সফলভাবে আটকানোর পর একটি আগুন লেগেছিল যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আটকানোর ফুটেজ কোথাও দেখানো হয়নি।
দুবাই বিমানবন্দর ও হোটেলে হামলা
বেলিংক্যাটের তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি হোটেলে ড্রোন হামলার ঘটনা সরকারিভাবে হামলা হিসেবে স্বীকার করা হয়নি। অথচ সামাজিক মাধ্যমে একজন অভিবাসী শ্রমিকের তোলা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ড্রোন আঘাত হানছে।
কেন এই তথ্য গোপন করা হচ্ছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো হামলার পরিধি স্বীকার করলে তাদের অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিনিয়োগকারীরা ভয় পাবেন এবং লাখো অভিবাসী শ্রমিক দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। তাই ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে বলার প্রবণতা রয়েছে।
বাংলাদেশিদের জন্য উদ্বেগজনক
ইউএই ও কুয়েতে বাংলাদেশের লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন। সরকারি বিবৃতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানো হলেও বাস্তবে হামলার পরিধি অনেক বড় হলে সেখানকার বাংলাদেশিরা কতটা নিরাপদ তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। পরিবারগুলো সঠিক তথ্য জানার অধিকার রাখেন।
Sarakhon Report 



















