দিল্লিতে এলপিজি সরবরাহ ও সমগ্র জ্বালানি খাতে চাপ কমাতে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়, পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস (পিএনজি) নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং এলপিজি সিলিন্ডারের কালোবাজারি ও জোগাড় রোধে হেল্পলাইন চালুর মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি সরকার। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইউএস-ইস্রায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার কারণে এলপিজি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে।
সরকারি নির্দেশে বাণিজ্যিক গ্রাহকদেরও অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যদি এখনও তেল বিপণন সংস্থার (ওএমসি) সঙ্গে নিবন্ধন না করে থাকেন, তবে তা করতে এবং পিএনজি সংযোগের জন্য আবেদন করতে, যাতে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত হয়।
পিএনজি সম্প্রসারণ ও নিবন্ধনের আহ্বান
খাদ্য, সরবরাহ ও ভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের অতিরিক্ত কমিশনার অরুণ কুমার একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, দিল্লিতে প্রায় ৫৬ লাখ গৃহস্থালি এলপিজি গ্রাহক রয়েছেন এবং সরকার জনগণকে পিএনজিতে রূপান্তরিত হতে উৎসাহিত করছে। তিনি জানান, “দিল্লির প্রায় প্রতিটি গ্রামে পিএনজি পৌঁছেছে। আমরা যেকোনো এলাকায় পিএনজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং জনগণকে আবেদন জানাচ্ছি, যদি আপনার এলাকা পিএনজি আওতায় থাকে, তবে পিএনজিতে পরিবর্তন করুন।” তিনি গ্রাহকদেরও অনুরোধ করেন, সিলিন্ডার সংযোগ সঠিক নামের সঙ্গে নিবন্ধন নিশ্চিত করতে যেন এটি অপব্যবহার বা অন্যত্র ব্যবহার না হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পিএনজি চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এক কর্মকর্তা জানান, “সংকটের আগে দৈনিক প্রায় ৬০০ সংযোগ যুক্ত হতো, যা এখন ১,৫০০-এর বেশি হয়েছে। লক্ষ্য ৩,০০০ সংযোগ প্রতিদিন করা।”
এলপিজি ও পিএনজি সরবরাহে সরকারী নিশ্চয়তা
সরকারি কর্মকর্তা বলেন, জ্বালানি তেল, ডিজেল, এলপিজি বা পিএনজি কমতি নেই। দিল্লি সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। শুরুতে এলপিজি সিলিন্ডারের দৈনিক বুকিং ২ লাখে পৌঁছেছিল, যা এখন ১.১১ লাখে নেমেছে, যা দৈনিক গড় ১.৬ লাখের চেয়ে কম। কিছু এলাকায় দীর্ঘ সারি থাকলেও তা ব্যাকলগের কারণে।
পরিবর্তিত এলপিজি বিতরণ নীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে এবং যাদের এলপিজি সংযোগ কার্ড নেই তাদের জন্য দৈনিক ১৮০টি (৫ কেজি) সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক বিতরণের নীতিও সংশোধন করা হয়েছে, যা এখন সরবরাহ শুধুমাত্র নিবন্ধিত ও পিএনজি সংযোগযুক্ত গ্রাহকদের জন্য।
কালোবাজারি ও হেল্পলাইন ব্যবস্থা
দিল্লি সরকার কালোবাজারি রোধে কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। জনগণকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে হেল্পলাইনে কল করলে পরিচয় গোপন রাখা হবে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ রিপোর্ট করার জন্য হেল্পলাইন নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে—০১১-২৩৩৭৯৮৩৬ এবং ৮৩৮৩৮২৪৬৫৯।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















